


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রুফটপ কাফে বা রেস্তরাঁগুলি নিয়ে একটি প্রস্তাবিত এসওপি (নির্দেশিকা) নবান্নে পাঠাল কলকাতা পুরসভা। ছাদের উপর গড়ে ওঠা কাফে, রেস্তরাঁগুলি পরিদর্শন বা অভিযানে গিয়ে কোন কোন বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার, সে সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেওয়া দেওয়া হয়েছে। নবান্ন এই প্রস্তাবে সিলমোহর দিলে তার ভিত্তিতেই ছাদ-রেস্তরাঁ নিয়ে পুরসভা, পুলিস, দমকল এবং আবগারি দপ্তরের যৌথ সমীক্ষা হবে। সেই সঙ্গে নতুন করে কোনও বিল্ডিংয়ের ছাদ বা বেসমেন্ট দখল করে ব্যবসা করা চলবে না বলে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে সব পুরসভাকে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। একথা জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
রুফটপ রেস্তরাঁগুলি ভাঙতে আপাতত বারণ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রেখে ‘হিয়ারিং’ করতে বলা হয়েছে। ফিরহাদ বলেন, ‘আদালত এই ছাদ-রেস্তরাঁগুলি নিয়ে পুরসভার অবস্থান জানতে চেয়েছে। সমস্ত সরকারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে হিয়ারিং করতে বলেছে। কোন কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হিয়ারিং হবে, ব্যবসায় ছাড় দিতে হলে কী কী শর্ত আরোপ করা যাবে, তার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর প্রয়োজন। সেটাই প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে নবান্নে।’ জানা গিয়েছে, ছাদ ঘিরে কোনও স্থায়ী বা অস্থায়ী নির্মাণ রয়েছে কি না, পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সিঁড়ি ফাঁকা আছে কি না, দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজ চালাতে কোনও বাধা তৈরি হতে পারে কি না, ট্রেড লাইসেন্স, আবগারি লাইসেন্স রয়েছে কি না—এসব খতিয়ে দেখতে হবে। মেয়র বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন বিভাগ (দমকল, পুলিস, আবগারি) এর সঙ্গে যুক্ত। সবার মতামত নিয়ে নবান্ন চূড়ান্ত এসওপি দিলে তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।’ এছাড়া, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর রাজ্যের সমস্ত পুরসভাকে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে বলে জানান ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘ছাদ ও বেসমেন্ট কমন এরিয়া। তাই নতুন করে কোনও বিল্ডিংয়ের ছাদ, বেসমেন্টে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হবে না। নতুন যত বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হবে, সেখানে এই বিষয়টির উল্লেখ থাকবে।’
এদিকে, ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করেছেন ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা। তাঁরা রুফটপ রেস্তরাঁ ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে ছাড় চেয়েছেন। ছাদের ৫০ শতাংশ ফাঁকা রেখে ব্যবসা, আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, ছাদে ওঠার সিঁড়ি ফাঁকা রাখা কিংবা দরজা খোলা রাখা সহ বিভিন্ন শর্তে ব্যবসা চালু রাখার আবেদন করেছেন তাঁরা। মেয়র তাঁদের জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। তাই এনিয়ে পুরসভা আপাতত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।