পুজোর মরশুমে পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপ, শান্তিনিকেতনে এবার ছ’দিন বন্ধ থাকবে সোনাঝুরির হাট
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: পুজোর ভিড় সামলাতে আগাম সতর্কতা। যানজট ও পরিবেশের উপর চাপ কমাতে শুক্রবার ষষ্ঠী থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত টানা ছ’দিন বন্ধ থাকবে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাট। পুজোর মরশুমে পর্যটকদের বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাট কমিটি। তাদের এই উদ্যোগে খুশি বোলপুর-শান্তিনিকেতনের বাসিন্দাদের একাংশ।

Advertisement

শান্তিনিকেতনে বেড়াতে এসে সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাটে ঢুঁ মারেন না, এমন পর্যটক কার্যত নেই বললেই চলে। স্থানীয় শিল্পীদের হাতে তৈরি পোশাক, অলঙ্কার, ঘর সাজানোর সামগ্রী সহ নানা ধরনের হস্তশিল্পের পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। একসময় সপ্তাহে শুধু শনিবারই এই হাট বসত। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ায় ধীরে ধীরে হাট বসার দিনও বাড়তে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই বসছিল হাট। গত বছর থেকে সপ্তাহে ছ’দিন হাট বসার সিদ্ধান্ত হয়। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বুধবার হাট বন্ধ রাখা হয়।
তবে উৎসবের মরশুমে এই জনপ্রিয় হাটকে কেন্দ্র করেই বাড়ে যানজটের সমস্যা। গত বছর বসন্ত উৎসবের সময় সোনাঝুরি এলাকায় পর্যটকদের বিপুল সমাগমে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় জেলা পুলিশকে। চলতি বছরে এই উৎসবে বন্ধ রাখা হয়েছিল হাট। দুর্গাপুজোতেও সোনাঝুরি এলাকায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। বিশেষ করে হাটের পাশাপাশি হিরালিনী দুর্গোৎসব দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন। ফলে পুজোর দিনগুলিতে হাট খোলা থাকলে যানজট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। সেই আশঙ্কা থেকেই এবারেও আগাম পদক্ষেপ করেছে হাট কমিটি। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর শুক্রবার ষষ্ঠী থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত টানা ছ’দিন হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পুজোর দিনগুলিতে ওই এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে একাধিক ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। পর্যটকদের ভিড় সামলানোর পাশাপাশি এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। হাটের শিল্পী তন্ময় মিত্র বলেন, আমরা চাই, পুজো সবার  আনন্দে কাটুক। কারও অসুবিধা করে আমরা কিছু করতে চাই না। তাই পুজোর কয়েক দিন হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসনকেও বিষয়টি  জানিয়েছি। শান্তিনিকেতন থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রতি বছরই পুজোর সময় যানজটের সমস্যা দেখা দেয়। হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই নিয়েছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। -নিজস্ব চিত্র