বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ডাক্তার হওয়া সহজ নয় মোটেই। আক্ষরিক অর্থে দিনরাত নিষ্ঠাভরে পড়াশোনা করে তাওবা হওয়া যায় কিন্তু জীবনজুড়ে ডাক্তার হয়ে ওঠা, সে বড়ো কঠিন কাজ! মাথা ঠান্ডা রেখে পরিবার ও রোগীময় জীবনের মধ্যে ব্যালান্স—বছরভর সেই কাজ করে চলা দুর্গম পর্বতারোহণের মতোই ঝক্কির। পুজোর চারদিন তার থেকে কি মুক্তি মিলবে? আবার ডাক্তারি জীবন থেকে সাময়িকভাবে হলেও রোগীদের সঙ্গে বিচ্ছেদ অসম্ভব। তাহলে? কীভাবে কাটবে চিকিৎসকদের পুজোর দিনগুলি?
বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ আশিস মিত্র বলেন, সাতদিনের জন্য যাচ্ছি ভিয়েতনাম। ষষ্ঠীতে বেরোব। ফিরব সপ্তাহখানেক পর। কিন্তু ওই কদিন আপনার রোগীরা বিপদে আপদে কোথায় যাবেন? কাকে ফোন করবেন? আশিসবাবু বলেন, বিদেশে গেলেও হোয়াটসঅ্যাপ খোলাই থাকবে। রোগীরা চাইলেই হোয়াটসঅ্যাপ কল করতেই পারেন। এছাড়া দিয়ে রাখছি ইমার্জেন্সি নম্বর। একটি টিম তৈরি করেছি। আমার জুনিয়ররা রোগী দেখবেন দরকারে। রোগীরা হাতের কাছে পাবেন তাঁদের। বহু বয়স্ক মানুষ আমার রোগী। প্রয়োজনে তাঁদের হোম ভিজিট করতেও বলেছি।
বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অভিষেক পোদ্দার বলেন, পুজোর কদিন মানে হাসপাতাল বন্ধ নয়। রাউন্ড দেব রোজ। তাহলে পরিবারকে সময়? ডাঃ পোদ্দার বলেন, পুজোর চারদিন সন্ধ্যায় পরিবারের সকলকে নিয়ে বেরনোর চেষ্টা করব। বন্ধুদের বাড়ি যাওয়া, আড্ডা আর পছন্দের রেস্তরাঁয় পছন্দের ডিশ নিয়ে বসে জমাট আড্ডা—এইটাই ওই চারদিন হবে আমার শ্রেষ্ঠ অবসর। কিন্তু ফোন তো তারই মধ্যেও আসতে থাকবে? আসবে। এতদিন এসেছে। এইরকম জীবনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। এভাবেই চলবে।
বিশিষ্ট হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিয়োপ্যাথির সার্জারির প্রধান ডাঃ রামকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, পুজোর চারদিন সপরিবার বিরতি নেব গ্রামের বাড়িতে, আমার ‘দেশের বাড়িতে’। বর্ধমানের কাটোয়ার অনেকটাই প্রত্যন্ত এলাকায়, আমার ‘দেশের বাড়ি’ বিলেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়োমালিয়া গ্রামে। কাটবে কীভাবে?
গ্রামের বাড়িতে গেলে আমি ছোটোবেলায় ফিরে যাই। ছোটোবেলার বন্ধুরা আসেন। জমিয়ে আড্ডা বসে। তাস নিয়ে বসি। মাছ ধরতে পুকুরে চলে যাই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটে সেই মগ্নতায়। এই নিরিবিলি আত্মসমীক্ষারও দরকার একজন চিকিৎসকের। নিজের একান্ত উপলব্ধির কথা জানালেন ডাঃ ঘোষ।



