Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাপড়ার বৃত্তিহুদায় মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য! প্রকাশ্যে জলঙ্গির বাঁধ কেটে পাচার, উৎকণ্ঠা

চাপড়ার বৃত্তিহুদায় মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য! প্রকাশ্যে জলঙ্গির বাঁধ কেটে পাচার, উৎকণ্ঠা
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চাপড়া: জলঙ্গি নদীর বাঁধের উপর চলছে মাটি মাফিয়াদের অবাধ দৌরাত্ম্য। প্রকাশ্য দিবালোকে নির্বিঘ্নেই মাটি কাটা ও পাচারের কাজ চালানো হচ্ছে। নদীয়া জেলার চাপড়া ব্লকের বৃত্তিহুদা গ্রামে এমন চিত্র ধরা পড়েছে। অভিযোগ, মাটি মাফিয়ারা জেসিবি মেশিন দিয়ে বাঁধ থেকে বেপরোয়াভাবে মাটি তুলে তা পাচার করছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে মাটি কাটতে থাকলে ভবিষ্যতে গ্রামে নদীর জল ঢুকে পড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে কাটা মাটি এক নিকটবর্তী ইটভাটায় মজুত করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, মাটি মাফিয়ারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন এই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসীরা। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। 

Advertisement

নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) প্রলয় রায়চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর আগে আমরা বেশ কিছু জায়গা থেকে মাটি কাটার অভিযোগ পেয়েছিলাম। সেইমতো আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা সম্ভবত নতুন জায়গায় করা হচ্ছে। তবে সত্যিই যদি অবৈধভাবে মাটি কাটা হয়, তাহলে আমরা আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেব।  গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বৃত্তিহুদা ফেরিঘাটের কাছে জলঙ্গি নদীর বাঁধ সংলগ্ন চর এলাকা থেকে একাধিক ট্রাক্টর ও আর্থ মুভার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কেটে তোলা হয়। এই অপরাধের প্রতিবাদ করতে এলে হুমকির মুখে পড়তে হয় গ্রামের বাসিন্দাদের। যার ফলে সবকিছু জেনেও মাটি মাফিয়াদের ভয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের মুখ বন্ধ করে থাকতে হয়। অভিযোগ, মাফিয়ারা রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায় থেকে এই কাজ করছে। 
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা গ্রামবাসী হোসেন মণ্ডল বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই নদীর বাঁধ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এর ফলে আমাদের অসুবিধা হতে পারে। কারণ তার ওপারেই আমাদের বাড়ি রয়েছে। মাটি কাটার ফলে যদি কোনওভাবে ভাঙন লাগে, তাহলে আমাদের ঘরবাড়িও ভেঙে যাবে। বাধা দিতে গেলে আমাদের মারতে আসছে। ইটভাটার জন্য এই মাটি কাটা হচ্ছে।  গ্রামবাসীদের কথায়, জলঙ্গী নদীর এই বাঁধটি শুধুমাত্র বৃত্তিহুদা গ্রাম নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন, জমি ও বাসস্থানের সুরক্ষার অন্যতম ভরসা। তাই স্থানীয়দের আশঙ্কা, এইভাবে মাটি তুলে নেওয়ায় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়বে। বর্ষাকালে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে পড়তে পারে। তখন ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদি পশু— সবকিছুই জলের তলায় চলে যাবে।  স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস শেখ বলেন, দিনের বেলাতেই নদীর ধার থেকে মাটি কেটে বড় বড় গর্ত করে দিয়েছে।‌ এর জন্য বন্যার সময় আমাদের কষ্ট হবে। মাটি যাতে কাটা না হয়, সেটাই আমাদের আবেদন।‌ গত বছর রেকর্ড পরিমাণ ২৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে নদীয়া জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। এর বড় অংশ অবৈধ বালি ও মাটি কাটা থেকে জরিমানা বাবদ আদায়। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এই অভিযানে ৩ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছিল। সেখানে চলতি অর্থবছরে ৬ কোটি ৬ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ