Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সমাজসেবী, ঐতিহ্য-আধুনিকতার মেলবন্ধনে বালিগঞ্জ কালচারাল

‘গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে...।’ শ্যামল মিত্রের কণ্ঠে এই গান শুনতে শুনতে শ্রোতার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে মহানায়কের ছবি। তিনি উত্তম কুমার।

জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সমাজসেবী, ঐতিহ্য-আধুনিকতার মেলবন্ধনে বালিগঞ্জ কালচারাল
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সায়নদীপ ঘোষ, কলকাতা: ‘গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে...।’ শ্যামল মিত্রের কণ্ঠে এই গান শুনতে শুনতে শ্রোতার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে মহানায়কের ছবি। তিনি  উত্তম কুমার। এবার তাঁর জন্মশতবর্ষ। ৮১ তম বর্ষের পুজোয় বাঙালির অন্যতম ম্যাটিনি আইডলকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সমাজসেবী সংঘ। এবছরের ভাবনা ‘মহাপুজোয় মহানায়ক’। সৃজনে শিল্পী বিশ্বনাথ দে। মণ্ডপের আনাচে কানাচে ফুটে উঠবে উত্তম স্মৃতি। উত্তম কুমারের প্রথম সিনেমা ‘দৃষ্টিদান’। ‘বসু পরিবার’, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ মুক্তি পেতেই বাঙালির হৃদয়ে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নেন মহানায়ক। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। মণ্ডপের পরতে পরতে থাকবে তারই ছোঁয়া। দুশোর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন উত্তম কুমার। তার মধ্যে বেশকিছু সিনেমা মুক্তি পায়নি। মণ্ডপের চারপাশে প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রের পোস্টারের সঙ্গে থাকছে অভিনয়ের বিভিন্ন মুহূর্তের কোলাজ। কাঠ খোদাই করে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সিনেমার গান ও সংলাপের অংশ। ভিতরে প্রবেশ করলেই স্বর্ণযুগের নস্টালজিয়ায় ডুবে যাবেন দর্শকরা। সাতের দশকের আদলে দেবী প্রতিমা নির্মাণ করছেন শিল্পী অরিঘ্ন সাহা। এক সময় সমাজসেবীর মাতৃমূর্তি দর্শন করতে আসতেন মহানায়ক। শোনা যায়, তখন ‘দেয়া নেয়া’ চলচ্চিত্রের কাজ চলছে। শ্যামল মিত্রের বাড়িতে মহড়ায় আসতেন উত্তম কুমার। তারই ফাঁকে দক্ষিণ কলকাতার এই পুজো ঘুরে যেতেন তিনি। আজ মহানায়ক নেই। তবে সমাজসেবীতে আজও তিনি স্বমহিমাময় বিরাজমান। শিল্পী বিশ্বনাথ দে’র কথায়, ‘জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছি। উত্তম কুমারের পছন্দের রংয়ের কথা মাথায় রেখে চারিদিক সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।’ সমাজসেবীর সম্পাদক অরিজিৎ মৈত্রের কথায়, ‘মহানায়ক আর কেউ হতে পারবেন না। তাঁকে নিয়ে আজও সমান উন্মাদনা চোখে পরে। নতুন প্রজন্মের সামনে সেই কিংবদন্তি হিরোকে তুলে ধরতে চাই।’ সবমিলিয়ে এবার সমাজসেবী সত্যিই উত্তমময়। 

Advertisement

উত্তম দর্শন সেড়ে কিছুটা গেলেই দেখা যাবে এক মোহময় পরিবেশ। সেখানে অতীত আর বর্তমান যেন মিলেমিশে রয়েছে। একদিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। অন্যদিকে উত্তর আধুনিক ডিজিটাল যুগ। দু’টি বিষয়ের মধ্যে যোগাযোগের সেতু তৈরি করছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। ৭৬ তম বছরে তাদের থিম ‘যোজন’। রূপায়ণে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। হাজার বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সমাজের মধ্যে যে ঐক্য লুকিয়ে রয়েছে সেটাই তুলে ধরবেন শিল্পী। মণ্ডপে প্রবেশ করতেই প্রস্তুতির বিভিন্ন ছবি দেখা গেল। কাঠ, লোহা সহ হরেক রকমের সামগ্ৰী দিয়ে সাজানো হচ্ছে চারিদিক। সেখানে ঐতিহ্যের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। একইসঙ্গে চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। উপরে থাকা আলোয় ফুটে উঠেছে নানান নকশা। এভাবেই বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে এক অদৃশ্য যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে। সম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দিচ্ছে এই পুজো। এর জন্য এক বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছেন আয়োজকরা। নাম ‘মিশন রি’— রিজয়েস, রিসাইকেল, রিপিট।’ এবিষয়ে বালিগঞ্জ কালচারালের সাধারণ সম্পাদক ডঃ সপ্তর্ষি বসু বলেন, ‘উৎসবে ব্যবহৃত জিনিস আবার কাজে লাগানো হবে। ফ্লেক্স দিয়ে তৈরি হবে ব্যাগ। পুজোর ফুল দিয়ে বানানো হবে ধূপকাঠি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ