সংবাদদাতা, করিমপুর: বর্ষা শেষ হয়েছে, এখনও শীতের আমেজ পড়েনি। তার মধ্যেই করিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে সাপের আনাগোনা। গত এক সপ্তাহে একের পরএক বিশালাকার চন্দ্রবোড়া এবং খরিস সাপ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। সাপে কাটার ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মধুগাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দু’টি বিশালাকার চন্দ্রবোড়া উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর হোগলবেড়িয়া থানার চেঁচানিয়া গ্রামে সুবোধ সরকারের বাড়ির পাশ থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক চন্দ্রবোড়া উদ্ধার হয়। এরপর ৪ অক্টোবর বাউশমারি গ্রামের সমর দাস বৈরাগ্যের বসতবাড়ি থেকে আরও একটি বড় চন্দ্রবোড়া উদ্ধার করা হয়। দু’টি সাপই লুকিয়ে ছিল বাড়ির আশপাশে। এছাড়াও গত এক সপ্তাহে করিমপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি বড় আকারের খরিস ও গোখরো উদ্ধার হয়েছে। সর্পবিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দ্রবোড়া অত্যন্ত বিষধর সাপ। এর বিষে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে গুরুতর রক্তক্ষরণ ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে ডায়ালিসিসেরও প্রয়োজন হতে পারে। করিমপুর নেচার কেয়ার সোসাইটির সদস্য গোলক বিশ্বাস বলেন, শীতঘুমে যাওয়ার আগে সাপ খাবারের সন্ধানে বেশি সক্রিয় হয়। পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজেও তারা এদিক-ওদিক চলাচল করে।তাঁর দাবি, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ঠান্ডার সময়ে সাপ সাধারণত গর্তে আশ্রয় নেয়। তবে শীতের রোদে মাঝে মাঝে গা গরম করতে গর্তের বাইরে বের হয়। করিমপুর জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সর্পপ্রেমী তরুণ পোদ্দার বলেন, বর্ষায় গর্তে জল ঢুকে যাওয়ায় সাপ অনেক সময় আশপাশে আশ্রয় নেয়। আবার এখন শীতের আগে খাবারে খোঁজে জঙ্গল পরিষ্কার, মাটি কাটা এবং বাড়িঘর তৈরির কাজের কারণে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। ফলে সাপ লোকালয়ে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের আশপাশের নো-ম্যানস ল্যান্ডে মানুষের যাতায়াত কম থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির সাপের নিরাপদ আবাস রয়েছে। কিন্তু গ্রামের আশপাশের ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় সাপের আশ্রয়ের জায়গা ক্রমশ কমছে। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মাটি কাটা ও জঙ্গল সাফ করা চলতে থাকলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতিদিন চার-পাঁচ জন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম মজুত রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সাপে কাটলে ওঝা বা স্থানীয় টোটকার উপর নির্ভর না করে কোনও রকম সময় নষ্ট না
করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।



