Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গমের গোডাউন থেকে রেশনের চাল পাচার! বিক্ষোভ বরানগরে

গমের গোডাউনের আড়ালে চলছে রেশনের চাল পাচারের কারবার! পাচার হচ্ছিল সম্ভবত অন্ধ্রপ্রদেশে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল বরানগর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবটিতলা এলাকা।

গমের গোডাউন থেকে রেশনের  চাল পাচার! বিক্ষোভ বরানগরে
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গমের গোডাউনের আড়ালে চলছে রেশনের চাল পাচারের কারবার! পাচার হচ্ছিল সম্ভবত অন্ধ্রপ্রদেশে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল বরানগর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবটিতলা এলাকা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের নম্বরযুক্ত একটি ট্রাকে চালের বস্তা বোঝাই করার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা ট্রাকটি আটক করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। চালবোঝাই লরিটি বাজেয়াপ্ত করেছে বরানগর থানার পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চবটিতলার ওই গোডাউন মূলত গমের গুদাম হিসাবেই পরিচিত। তার আড়ালেই রমরমিয়ে চলছিল রেশনের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী লোপাটের কারবার। শুক্রবার বিকালে দেখা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের নম্বরপ্লেট লাগানো একটি ট্রাকে তড়িঘড়ি বস্তা তোলা হচ্ছে। সন্দেহ হওয়ায় কাছে যেতেই চোখ কপালে ওঠে স্থানীয়দের। তাঁরা দেখেন, বস্তাগুলির গায়ে রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। সেই বস্তা থেকে চাল বার করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে তা গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। গম মজুতের অছিলায় গুদামটিতে রেশনের চাল লুকিয়ে রেখে ভিন রাজ্যে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল বলেই অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 
উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়ে গাড়িটি ঘিরে ফেলতেই চাল ওঠানোর কাজে যুক্ত থাকা শ্রমিকরা চম্পট দেয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রেশন দুর্নীতির চক্র এখানে সক্রিয়। বরানগর মণ্ডল ১-এর বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎ প্রামাণিক বলেন, ‘এর শিকড় আরও গভীরে আছে। এক শ্রেণির অসাধু কারবারির জন্য সাধারণ মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওরা ভাবছে রাজ্যে এখনও হয়তো তৃণমূলের সরকার আছে। তৃণমূলের সময় খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছিল। আমরা চাই পুলিশ সঠিক তদন্ত করে এর মূল খুঁজে বার করুক।’  
বরানগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ বস্তা চাল এবং ওই ট্রাক আটক করে নিয়ে যায়। গুদামে রাখা ও বাজেয়াপ্ত চাল আদৌ রেশনের কি না, তা খাদ্য পরিদর্শককে দিয়ে যাচাই করানো হচ্ছে। খাদ্যদপ্তরের নাম ও লোগো দেওয়া বস্তা কীভাবে ওই গুদামে এল, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে এসিজেএম আদালতের কাছে তদন্তের আবেদনও জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় বিধায়ক সজল ঘোষ জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ