


সংবাদদাতা, তেহট্ট: ভয়ে ভয়ে ক্লাসে ঢুকছেন ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মীরা। কে জানে, কখন ছোবল খেতে হয়! দিনে দুপুরে ডঃ বি আর আম্বেদকর কলেজে বিষধর সাপ ঘোরাফেরা করছে। যার জেরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের। কলেজ ক্যাম্পাসে, অফিস ও ক্লাসরুমের পাশ থেকে পরপর বিষধর সাপের বাচ্চা উদ্ধার হওয়ায় আতঙ্কিত বেতাইয়ের ডঃ বি আর আম্বেদকর কলেজের অধ্যাপক, কর্মী থেকে ছাত্রছাত্রীরা। কলেজের কর্মীরা, যাঁদের সাপ ধরার কোনও প্রশিক্ষণ নেই, তাঁরা অসীম সাহসে ভর করে বিষধর সাপগুলি ধরে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসছেন। বর্ষা শুরু হতে কলেজে মাঝে মধ্যে বিষধর সাপের আনাগোনা নজরে পড়ছে বলে জানান কলেজ কর্মীরা। কলেজ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ভয়ঙ্কর কালাচ সাপ উদ্ধার হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে পরপর ছ’-সাতটি দু’ ফুটের মতো লম্বা গোখরো সাপের বাচ্চা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। কলেজের অশিক্ষক কর্মী আশিস বিশ্বাস, নীতিশ বিশ্বাস, সমরেশ বিশ্বাসরা জানান, কলেজের পূর্ব দিকে রয়েছে একটি বিল। এই বিল এখন কানায় কানায় জলে ভর্তি। এছাড়াও আশেপাশে যে সমস্ত জায়গায় সাপের বাসস্থান সেই সমস্ত জায়গায় জল জমে যাওয়ায় উঁচু নিরাপদ জায়গা হিসেবে কলেজের ভিতরে সাপগুলি চলে আসছে। এর আগেও এই ধরনের ছোট বড় সাপ কলেজ ক্যাম্পাস দেখা গিয়েছে। যে কারণে আমরা ভীত। কলেজ বিল্ডিংয়ের পূর্ব দিকে ছাত্রছাত্রীদের বসার জন্য বেশ কিছু জায়গা করা হয়েছে। সেখানে এই বর্ষায় বসা নিয়ে কলেজের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে। সাপের ভয়ে কলেজে ছাত্রছাত্রী থেকে অধ্যাপক শিক্ষাকর্মীদের অনেকেই জুতো পরে আসছেন। ছাত্রছাত্রীরা বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে কলেজে বিষধর সাপের উৎপাত শুরু হয়েছে। কোথা থেকে এদের আগমন হল বলা যাচ্ছে না। তবে যে ভাবে বিষধর সাপের বাচ্চা বের হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আশেপাশে এই সাপের বাসা আছে। যেখান থেকে এরা বড় হয়ে আসছে। কলেজে অনেক সাবধানে ঢুকতে হচ্ছে। তাঁরা বলেন, কলেজের নিরাপত্তা রক্ষী গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আচমকা তাঁর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে একটি বিষধর সাপের বাচ্চা চলে যায়। ভাগ্য ভালো থাকায় তাঁর কোনও ক্ষতি হয়নি। একটু অন্যমনস্ক হলেই তাঁর ক্ষতি হয়ে যেত। এই বিষয়ে বেতাই ডঃ বি আর আম্বেদকর কলেজের অধ্যক্ষ পীযূষকান্তি দেব বলেন, ছয় থেকে সাতটি বিষধর সাপ উদ্ধার হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বনদপ্তরকে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের কথা ভেবে কলেজ ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা হচ্ছে। এছাড়া আর যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা করা হচ্ছে। - নিজস্ব চিত্র