Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

সিলেটে ভাঙল মন্দির, হিন্দুদের বাড়িও, রাতভর তাণ্ডব বাংলাদেশে

‘বৈষম্যবিরোধী’ বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা! ফেসবুকে ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে, এই ‘ধুয়ো’ তুলে মঙ্গলবার রাতভর তাণ্ডব চলল সিলেটের সুনামগঞ্জে। সেখানকার দোয়ারাবাজার উপজেলায় নির্বিচারে ভাঙচুর করা হল হিন্দুদের বাড়ি ও দোকান।

সিলেটে ভাঙল মন্দির, হিন্দুদের বাড়িও, রাতভর তাণ্ডব বাংলাদেশে
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা ও নয়াদিল্লি: ‘বৈষম্যবিরোধী’ বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা! ফেসবুকে ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে, এই ‘ধুয়ো’ তুলে মঙ্গলবার রাতভর তাণ্ডব চলল সিলেটের সুনামগঞ্জে। সেখানকার দোয়ারাবাজার উপজেলায় নির্বিচারে ভাঙচুর করা হল হিন্দুদের বাড়ি ও দোকান। সঙ্গে চলে লুটপাট। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি মন্দিরও। লোকনাথ মন্দিরে ভাঙচুরের পর সেখান থেকে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করা হয়। পুলিস ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এমনকী কতগুলি জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে, তা নিয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, চল্লিশেরও বেশি বাড়ি, দোকান ভাঙচুর হয়েছে। কয়েকটি সূত্র আবার জানিয়েছে, সংখ্যাটা একশোর বেশি। প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতেও বাধ্য হয় বহু হিন্দু পরিবার। একের পর এক এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে চাপের মুখে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই পরিস্থিতিতে বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ‘জাতীয় ঐক্য’ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি বৈঠকে বসেন। সেখানে বিএনপি-জামাত ডাক পেলেও সংখ্যালঘুদের তরফে কোনও সংগঠন ছিল না। ফলে ইউনুস সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
Advertisement
আজ, বৃহস্পতিবার ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন ইউনুস। কিন্তু হঠাত্ পরপর এত বৈঠকের কারণ কী? জবাবে আরও একবার সেই ‘ভারতের অপপ্রচার’ তত্ত্বই খাড়া করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রধান সচিব শফিকুল আলম। তাঁর দাবি, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলি অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে জাতীয়ভাবে ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারে সব দল একমত হয়েছে। এমনকী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতারা।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা বাড়ছে। সেই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন সুনামগঞ্জ। প্রশাসন সূত্রে খবর, ফেসবুকে অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন সেখানকার মংলারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আকাশ দাস। মঙ্গলবার পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি উন্মত্ত জনতা। শুরু হয় মিছিল। রাত বাড়তেই তা রূপ নেয় হামলার। দোয়ারাবাজারের লোকনাথ মন্দিরে ভাঙচুর চালায় কয়েক হাজার উন্মত্ত জনতা। মন্দির কমিটির সম্পাদক খোকন রায় জানিয়েছেন, ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রচুর জিনিস লুট করে নিয়ে যায় ওরা। অন্তত ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরপর বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালানো হয়। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আসা এক যুবক জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রামে একশোরও বেশি বাড়িতে হামলা হয়েছে। রাস্তার পাশের দোকানও বাদ যায়নি। তাই প্রাণ বাঁচাতে গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। হিন্দু নির্যাতন নিয়ে এদিন ইউনুস সরকারকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকাও। সেদেশের বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল জানিয়েছেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।’ বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র পাঠ দিয়েছেন দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারিও। তিনি জানান, হিন্দুদের প্রতি এই অবিচার ও অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ