বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে দক্ষিণ দমদমের তেলিপুকুর সর্বজনীন পুজোর পাস বিক্রি করছিল। পালটা পোস্ট করে টাকার বিনিময়ে পাস বিক্রি না করার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তথা ওই পুজোর প্রধান উপদেষ্টা তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। তবে তেলিপুকুর শুধু নয়, সমাজমাধ্যমে ভিআইপি পাস কেনাবেচা চক্রের এখন রমরমা বাজার। ৩০০ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত দর হাঁকা হচ্ছে। তাতেও পাস নিতে হুড়োহুড়ি। শহরজুড়ে এই ভিআইপি কালচারে অনেকেই তিতিবিরক্ত।
দক্ষিণ দমদমে যুব সংঘ পরিচালিত তেলিপুকুর-নার্সারিবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের থিম ‘এক পুকুর ভালোবাসা’। শিল্পী ভবতোষ সুতার অসাধারণ শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন মণ্ডপে। পালাবদলের পর দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় এই পুজো এখন সব থেকে বেশি বাজেটের বলে লোকমুখে ঘুরছে। ফলে এই পুজোর ভিআইপি পাস পেতে অনেকেই হাপিত্যেশ করছেন। সমাজমাধ্যমে নাগেরবাজার-দমদম গ্রুপে এই পুজোর পাসের ছবি পোস্ট করা হয়। তাতে লেখা, ‘কারও তেলিপুকুর যুব সংঘের পাস লাগবে, কমেন্টে জানান। ৩০০ টাকায় চারজন যেতে পারবেন।’ এরপর ওই পোস্টটি বিধায়ক তরুণজ্যোতির নজরে আসে। তিনি ওই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে গিয়ে লেখেন, ভিআইপি পাস জনসাধারণকে বিনা পয়সায় দেওয়া হয়েছে। এগুলির জন্য কেউ কাউকে টাকা দেবেন না। কেউ যদি এমন করে থাকেন, আমাদের জানান।
তবে শুধুমাত্র তেলিপুকুরের পাস বিক্রি হচ্ছে, এমনটা নয়। সমাজমাধ্যমে উত্তর শহরতলির বহু এলাকা ভিত্তিক গ্রুপ রয়েছে। সেখানে স্থানীয় মানুষ নিজেদের সমস্যা সহ নানা বিষয় পোস্ট করেন। সেখানে কলকাতা সহ শহরতলির বহু পুজোর ভিআইপি পাস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রকাশ্যে রেট বলছেন। কেউ আবার ইনবক্সে মেসেজ করতে বলছেন। সেখানে মেসেজ করলেই, কোন কোন পুজোর পাস পাওয়া যাচ্ছে, তার তালিকা দেওয়া হচ্ছে। মোটামুটি ভিআইপি পাস ৩০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় দেদার বিকোচ্ছে। উত্তর কলকাতার এক পুজো মণ্ডপে প্রি-পুজো ঠাকুর দেখার জন্য ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তা নিয়ে ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছেয়ে গিয়েছে। শহরবাসীর দাবি, এই ব্যবস্থা আগেও ছিল। পুজো এলেই কম কষ্টে মণ্ডপ ও ঠাকুর দেখার বাসনায় ভিআইপি পাস পাওয়ার চেষ্টা মানুষের বাড়ে বলেই পাস কেনাবেচা শুরু হয়। পালাবদলেও সেই ছবি খুব একটা বদল হয়নি। বরং আগের মতো পাস পাওয়ার ‘চেনা রুট’ বহু ক্ষেত্রে বদলে গিয়েছে। অনেকেই পাস পাচ্ছেন না। সমাজমাধ্যমে ভিআইপি পাসের বিজ্ঞাপন দেখলে অনেকেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। টাকা দিয়ে পাস কিনতে কার্পণ্য করছেন না উৎসাহীরা।



