Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১১ বছর আগে তৃণমূল কর্মী খুনে ছ’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১১ বছর আগে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুনের ঘটনায় ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বালুরঘাট জেলা আদালত।

১১ বছর আগে তৃণমূল কর্মী খুনে ছ’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পতিরাম: ১১ বছর আগে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুনের ঘটনায় ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বালুরঘাট জেলা আদালত। ওই তৃণমূল কর্মীকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছিল সাত জন। বালুরঘাটের মাহিনগড়ে এয়ারপোর্টের পাশের একটি ডোবা থেকে রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিস সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারমধ্যে একজনের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। বাকি  ছ’জনকে নানা ধারায় গতকাল দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করলেন বালুরঘাট জেলা আদালতের এডিজে থার্ড কোর্টের বিচারক মনোজ প্রসাদ।  বালুরঘাট জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী বলেন, গতকাল ওই মামলায় ছ’জনকে দোষী সব্যস্ত করেছিল আদালত। এদিন তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও আরও দু’টি ধারায় ছ’জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও ৫০৬ ও ৩৪ নম্বর ধারায় তাদের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দু’মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।  আদালত সূত্রে খবর, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বালুরঘাট বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় একটি ডোবা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম রামপ্রসাদ হালদার। বাড়ি বালুরঘাট পুরসভার ছিন্নমস্তাপল্লিতে। এলাকায় তৃণমূল  কর্মী বলে পরিচিত হলেও আসামীদের সঙ্গে তাঁর পুরনো শত্রুতা ছিল। সেই শত্রুতার জেরেই তিনি খুন হন। দোষীদের মধ্যে প্রবীর শীল নামে একজনের বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। বাকি ছ’জনের বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকে। তবে রায়ের আগেই শ্যামল হাঁসদা নামে এক দোষী ভিনরাজ্যে পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে বালুরঘাট থানার পুলিস চলতি মাসেই গ্রেপ্তার করে আনে। বাকি পাঁচ জন রাকেশ দাস, রঞ্জিত বিশ্বাস, জয়দেব দাস, আনন্দ নুনিয়া, সুরদীপ দাসকে আদালতে তোলা হয়েছিল। এই রায়ের পর মৃতের বাবা অমল হালদার ও মা আদরী হালদার বলেন, আমাদের ছেলে তৃণমূল করত। কিন্তু কেন এই খুন এখনও তা বুঝে উঠতে পারিনি। আমার ছেলের স্ত্রী ও তাদের পুত্র সন্তান রয়েছে। বউমা পরিচারিকার কাজ করে। যদি আমাদের ছেলে বেঁচে থাকত, তাহলে কষ্ট করতে হতো না। আমরা ফাঁসি চেয়েছিলাম। তবে যাবজ্জীবন হয়েছে, তাতেই আমরা খুশি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ