সংবাদদাতা, দিনহাটা: জলাশয়ে জমে থাকা কচুরিপানার নীচ থেকে উদ্ধার হল নিখোঁজ শ্যালক ও জামাইবাবুর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম মোমিন মিয়াঁ (২৭) ও মণিরুল মিয়াঁ (২৫)। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সিতাই ব্লকের ছাট সিঙিমারি গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের দেহ উদ্ধার হয় গ্রামের একটি জলাশয় থেকে। ওই ঘটনায় গ্রামের এক বাসিন্দা আমিনুর মিয়াঁকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দু’জনকে খুন করে কচুরিপানার নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মণিরুল মিয়াঁ ও মোমিন মিয়াঁ সম্পর্কে শ্যালক ও জামাইবাবু। বুধবার সকালে একটি ভুটভুটিতে তামাক বোঝাই করে দিনহাটা গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু, তারপর তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁদের খোঁজ না মেলায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ ওই জলাশয়ের কাছেই একটি কলাগাছের কাছে জুতো পড়ে থাকতে দেখে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এরপর ওই জলাশয়ের কচুরিপানার নীচ থেকে শ্যালক ও জামাইবাবুর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সিতাই থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
একসঙ্গে শ্যালক ও জামাইবাবুর রহস্যজনকভাবে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের তত্ত্ব জোরালো হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ওই জলাশয়ের ধারে বিদুতের তার লাগানো ছিল। সেখানেই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। পরে দেহ দু’টি জলাশয়ের কচুরিপানার নীচে কেউ লুকিয়ে রাখে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট হবে ওই শ্যালক ও জামাইবাবুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।
দিনহাটা আদালতের সরকারী আইনজীবী মৃগাঙ্ক সেনগুপ্ত বলেন, এদিন পুলিশ আমিনুর মিয়াঁ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলে। বিচারক তাকে সাত দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।