ব্যবস্থাপনায় গলদ! খতিয়ে দেখবে সিট
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: থিমের বাহারে অন্ধকার মণ্ডপ। সেখানে প্রবেশের জন্য সরু পথ। গত বছরের তুলনায় ‘এক্সিটে’র সংখ্যা কমিয়ে আনা। আর প্রত্যাশিতভাবেই অত্যধিক ভিড়ের চাপ। এবং হঠাৎ ভেসে আসা ঘোষণা—মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে। চোরবাগান বিপর্যয়ে এই প্রত্যেকটি ‘গলদ’ই আলোচনার শিরোনামে উঠে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, ১৯টি মৃত্যুর আসল কারণ কী? নেপথ্যে কার গাফিলতি? পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ কতটা দায়বদ্ধ? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই সিট চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্ত করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সিটে কলকাতা পুলিশ এবং পুরসভার কোনো প্রতিনিধি নেই। অর্থাৎ, তারাও গাফিলতির ঘটনায় সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। একাদশীর সন্ধ্যায় সিটের সদস্যরা মণ্ডপস্থল পরিদর্শনে যান এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। তিনমাসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট মুখ্যসচিবের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

গিরিশ পার্ক থানা এলাকায় গলির ভিতর পুজো। তাই প্রবেশ ও বাহিরপথ নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়াই রীতি কলকাতা পুলিশে। ২০২৫ সালে চোরবাগানের পুজোর ‘এক্সিট প্ল্যান’ ঢেলে সেজেছিল পুলিশ। মণ্ডপে ভিড় যাতে বেশিক্ষণ আটকে না থাকে, সেজন্য বাহিরপথের সংখ্যা বাড়িয়ে তিনটি করা হয়েছিল। পালাবদলের বছরে এবার বদলেছে চোরবাগানের পুজো কমিটিও। আর এবারই এক্সিট গেট কমিয়ে দেওয়া হয়। একটি বাহিরপথ ছিল ভিআইপি পাসধারীদের জন্য। অপরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের। সেই পথে আবার পরপর স্টল। ফলে এক্সিট গেট আরও সংকীর্ণ হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, বন্ধ ছিল ইমার্জেন্সি এক্সিট রুট বা আপৎকালীন বাহিরপথও। দর্শনের প্রাইম টাইম, অর্থাৎ পৌনে ৭টা নাগাদও সেই পথের কোলাপসিবল গেট তালাবন্ধ ছিল। আহতরা বলেছেন, ঘটনার সময় পুজো উদ্যোক্তা বা পুলিশ, কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিপর্যয়ের ঘণ্টাখানেক আগে চোরবাগানের পুজো দেখতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায় বেহালার সরশুনা এলাকার এক শিশুর। তাঁর মা সুতপা দাস সাহা বলেন, ‘প্রচণ্ড ভিড় আর অন্ধকারে আমার ৪ বছরের মেয়ের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। একাধিক পুজো উদ্যোক্তাকে অনুরোধ করি যাতে আমাদের একপাশে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সাহায্য মেলেনি।’ বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু বিপর্যয়ের সময় নয়, অসহযোগিতার ট্রেন্ড পুজোজুড়েই ছিল। একইসঙ্গে, দড়ি হাতে যে সমস্ত ভলান্টিয়ার ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ছিলেন, তাঁদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। হঠাৎ বৃষ্টি ভিড়ের সেই আগুনে ঘিয়ের কাজ করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সিটের চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা রায় সরস্বতীও বলেন, ‘এক্সিট পয়েন্ট এক কথায় হতাশাজনক। পরিস্থিতি যা, তাতে বেশি দর্শক প্রবেশ করলে দুর্ঘটনা হবেই। কার গাফিলতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত করছি। কেন মণ্ডপ ভেঙে পড়ার কথা ঘোষণা করা হল, তাও যাচাই করা হবে। তদন্ত চলাকালীন প্রতিমা নিরঞ্জন হতে পারে, কিন্তু মণ্ডপ এমনই অবস্থায় রাখা হবে।’