সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: মাঝে আর মাত্র কয়েক দিন। বছরভর অপেক্ষার পর ফের দেবী দুর্গার আগমনে উৎসবের মেজাজে মাতবে শহর। তার আগে শিলিগুড়ির কুমোরটুলিতে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। দিন-রাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। কোথাও দেবীর মুখে ফুটে উঠছে চক্ষুদান, আবার কোথাও চলছে রং, অলঙ্কার ও সাজসজ্জার কাজ।
এবার প্রতিমার অর্ডার ভালো থাকলেও মাটি সহ কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম সংকটে শিলিগুড়ির কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। একসময় ঘোষপুকুর ও আশপাশের এলাকা থেকে সহজেই প্রতিমা তৈরির মাটি সংগ্রহ করা গেলেও বর্তমানে মাটি তোলার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা এবং পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিল্পীদের।
কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন পাল জানান, বহু চেষ্টা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাটি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। গতবছর এক ট্রাক মাটি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল, এবার সেই মাটির দাম ১২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। শুধু মাটি নয়, প্রতিমার রং, গয়না এবং অন্যান্য সরঞ্জামের দামও অনেকটাই বেড়েছে। নিরঞ্জনবাবুর কথায়, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির জেরে প্রতিমা তৈরির খরচ গতবারের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। সেই অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়াতে গেলে পুজো কমিটিগুলি পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে অর্ডার থাকলেও লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়বে। আরএক মৃৎশিল্পী নারায়ণ পালের কথায়, অর্ডার বাড়লেও সেই অনুপাতে লাভ বাড়ছে না। বরং উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভের অঙ্ক ক্রমশ কমছে।
শিল্পীদের বক্তব্য, মাটি, খড়, বাঁশ, রং, কাপড় সহ প্রতিমা সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বেড়েছে। ফলে প্রতিমার দাম বাড়ালে ক্রেতাদের উপর চাপ পড়ছে, দাম অপরিবর্তিত রাখলে শিল্পীদের লাভ কমে যাচ্ছে। দুইয়ের মাঝে পড়েই সমস্যায় মৃৎশিল্পীরা। কুমোরটিলির মৃৎশিল্পী অরূপ পাল বলেন, এবার বড়ো প্রতিমার অর্ডার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তার পরিবর্তে ছোটো ও মাঝারি আকারের প্রতিমার চাহিদা বেড়েছে।
পুজোর আগে কুমোরটুলিতে ব্যস্ততা চোখে পড়লেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন শিল্পীরা। তাঁদের কথায়, উৎসবের মরশুমে কাজ বাড়লেও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় বাড়ছে না।