মূল্যবৃদ্ধির জন্য মাটির জিনিস তৈরি করেও লাভ মিলছে না, আক্ষেপ শ্যামপুরে, পেশায় আসতে চাইছে না নতুন প্রজন্ম
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আজ, রবিবার বাড়ি বাড়ি লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা। শনিবার সকাল থেকেই তাই বাজারে ফুল, ফল, দশকর্মা সহ মাটির নানা উপকরণ কেনার ভিড়। পুজোর চাহিদার এই মরশুমে মাটির দেবীঘট, দ্বারঘট, সরা, জগ, হাঁড়ি থেকে প্রদীপের চাহিদা বাড়ছে। মানুষের কাছে সেগুলি পৌঁছে দিতে দিনরাত এক করে কাজ করে চলছে শ্যামপুরের বাগান্ডা এলাকার শতাধিক পরিবার।

Advertisement

দুর্গাপুজোর পর লক্ষ্মী, কালী, জগদ্ধাত্রী, কার্তিক পুজোয় মাটির এইসব উপকরণ তৈরি করতে এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন ওই পরিবারগুলির পুরুষ থেকে মহিলারা। তবে তাঁদের আক্ষেপ, মাটির এইসব উপকরণ তৈরি করতে যে পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে হয়, সেই তুলনায় টাকার মুখ দেখা যায় না। এই কারণে নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। প্রথমে মাটি কেনা, তারপর সেই মাটিকে ভালো করে পরিষ্কার করে তিনবার জল দিয়ে মেখে মাটির জিনিস তৈরি করতে হয়। এরপর সেই মাটির জিনিসগুলি রোদে শুকানোর পরে আগুনে পুড়িয়ে বাজারজাত করা হয়।
বাগন্ডার কুমোরপাড়ার বাসিন্দা নিত্যানন্দ পাল জানান, এখানে এই এলাকা ছাড়াও গাজিপুকুরিয়া, কাঁটাখোলা, নদীর ধার, পালপাড়ায় এইসব মাটির জিনিস তৈরি হয়। এদিকে কাঁচামাল ও শ্রমিকের মজুরি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে লাভের অঙ্ক কমেছে। আগে এক ভক্সেল (মাটিক একক) মাটি ২১০ টাকায় কিনলেও এখন ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
বৃদ্ধা আরতি পাল বলেন, সংসার সামলে এই কাজ করতে হয়। ঠাকুরের জিনিসপত্র ছাড়াও মালসা, কলসি তৈরি হয়। মাটির জিনিসের চাহিদা থাকলেও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে লাভ সেইভাবে থাকে না। তবে নিজেরা অনেকটা কাজ করে নিই বলে কিছুটা হলেও বাঁচোয়া।