Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে পারেন শুভেন্দু, প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই জায়গা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে একটি আসনের এমএলএ পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে পারেন শুভেন্দু, প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই জায়গা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে একটি আসনের এমএলএ পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। সম্ভবত, নন্দীগ্রাম থেকেই তিনি সরে দাঁড়াতে পারেন বলে খবর। গত ৬মে নন্দীগ্রামে বিজেপির ধন্যবাদ কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির ফাঁকে নন্দীগ্রামে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিধানসভার নেতৃত্বের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিলেন শুভেন্দুবাবু। সেখানে নন্দীগ্রাম আসন থেকে ‌ইস্তফা দেওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে নেতৃত্বের দাবি। সেক্ষেত্রে ওই আসনে উপ নির্বাচন হবে। তাহলে নন্দীগ্রাম থেকে কে বিজেপির প্রার্থী হবে? তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা নন্দীগ্রামে শুভেন্দুবাবুর ঘনিষ্ঠ মেঘনাদ পালের নাম শোনা যাচ্ছে।

Advertisement

২০১৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হন। তারপর ২০২১ ও ২০২৬ সালে বিজেপির টিকিটে পরপর দু’বার নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে এই আসনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে জায়ান্ট কিলার তকমা পান। এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দু’জায়গা থেকে তিনি লড়াই করেন। নন্দীগ্রাম থেকে ৯৬৬৫ ভোটে জয়ী হন শুভেন্দুবাবু। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেন। একইসঙ্গে দু’টি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক থাকা যায় না। তাই নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন থেকে ইস্তফা দিতে হবে। নন্দীগ্রাম আসন থেকেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে সেখানকার নেতৃত্বকে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।
২০০৬ সাল থেকেই নন্দীগ্রামের সঙ্গে শুভেন্দুবাবুর যোগ। জমি রক্ষার আন্দোলন দানা বাঁধার মুহূর্ত থেকেই তিনি নন্দীগ্রামে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। তারপর ২০০৭ সালে সেই আন্দোলন রক্তক্ষয়ী এবং ভয়াবহ রূপ নেয়। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন শুভেন্দুবাবু। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনের পথ ধরেই রাজ্যে পালাবদলের বীজ বপন হয়। ২০০৯ সালে নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপ নির্বাচনে জয়ী হন শহিদ মাতা ফিরোজা বিবি। পরিবর্তনের পাশে হাওয়া আরও জোরালো হয়। পরবর্তীতে নিজে নন্দীগ্রাম বিধানসভার ভোটার হন শুভেন্দুবাবু। সেইসঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক জীবনীতে একটা বিরাট অংশ জুড়ে স্থান নেয় নন্দীগ্রাম।
২০২০ সালে ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দুবাবু বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মেঘনাদ পাল সহ আরও অন্যান্য নেতৃত্ব পূর্ণ আস্থা রেখে বিজেপিতে চলে যান। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন নন্দীগ্রামের মানুষ যেভাবে তাঁর পাশে ছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই সমর্থন অটুট। এবার রাজ্যে পালাবদলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় তিনি নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দিলেও তাঁর সঙ্গে এখানকার মাটির সম্পর্ক একুটুকু কমবে না বলে বিজেপি কর্মীদের দাবি। 
নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস দাস বলেন, নন্দীগ্রাম বিধানসভা থেকেই সম্ভবত শুভেন্দুবাবু ইস্তফা দেবেন। ৬ তারিখ সেরকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, তিনি আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন। আরও এক বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল বলেন, শুভেন্দুবাবু নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে কে প্রার্থী হবেন, সেটা দল ঠিক করবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আমরা খুব আনন্দিত। এখন সেই খুশি উদ্‌যাপন চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ