লখনউ: বিধ্বংসী মেজাজে শুরু করেও বেশিক্ষণ থাকেননি অভিষেক শর্মা। টানা চতুর্থ ম্যাচে ব্যর্থ সঞ্জু স্যামসনও। কিন্তু ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ভারতের জয়ের পথ গড়ে দিলেন শ্রেয়স আয়ার। তাঁর অধিনায়কোচিত অপরাজিত ১০২ রানই নিশ্চিত করল জয়। উল্লেখ্য, এই ঘরানায় এটাই দেশের হয়ে শ্রেয়সের প্রথম শতরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচে যা ৩২ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে জেতাল টিম ইন্ডিয়াকে (১৪.৪ ওভারে ১৭২-২)। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। পরের ম্যাচ শুক্রবার রাঁচিতে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ক্যারিবিয়ানরা থামে ১৭১ রানে। পুরো কুড়ি ওভার খেলতে পারেনি তারা। ক্যাপ্টেন শাই হোপ (৩৭ বলে ৫২) ও শেরফানে রাদারফোর্ড (৩৪ বলে ৫৬) রান পান। একসময় ১৩৫ রানে আট উইকেট পড়ে গিয়েছিল সফরকারী দলের। তখন দেড়শো রানও অনেক দূরের লাগছিল। কিন্তু রাদারফোর্ডের সৌজন্যে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছায় তারা। ভারতের সফলতম বোলার নমন ধীর। এই ফরম্যাটে অভিষেকেই ৩১ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নেন অফস্পিনার। অক্ষর প্যাটেল (২-২৬), কুলদীপ যাদব (২-৩৩), অর্শদীপ সিং (১-৩৪), ময়াঙ্ক যাদবও (১-৪০) সফল।
১৭২ রানের টার্গেট তাড়া করে অভিষেককে শুরুতে মারমুখীই দেখায়। কিন্তু তিনি ১০ বলে ফেরেন ২১ রানে। সঞ্জু (১১) অবশ্য ফের হতাশ করেন। আগের তিন ইনিংসে তাঁর রান যথাক্রমে ৯, ৭, ২। বৈভব সূর্যবংশীকে ডাগ আউটে বসিয়ে তাঁকে খেলানো নিয়ে তাই ফের চর্চা নেটদুনিয়ায়।
ভারতীয় ক্যাপ্টেন অবশ্য যাবতীয় আলোচনাতেই জল ঢাললেন বিস্ফোরক ইনিংসে। ক্রিজে আসার সময় চতুর্থ ওভারে স্কোর ছিল ৩৫-২। কিন্তু দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেন তিনি। ২৮ বলে পঞ্চাশের পর সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে নেন আর মাত্র ১৪ বল। ৪৩ বলে শ্রেয়স মারেন ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা। ২৩৭.২০ স্ট্রাইক রেটের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ঈশান কিষানের সঙ্গে শ্রেয়স যোগ করেন ১৩৭ রান। এই জুটির সামনে অসহায় দেখায় ক্যারিবিয়ানদের। তিন নম্বরে নামা ঈশান ২৭ বলে অপরাজিত থাকেন ৩৭ রানে।
দু’জনের জুটিতে অনায়াসেই টি-২০ ক্রিকেটে আসে টানা দশম জয়। একানা স্টেডিয়ামে এটা শ্রেয়সের টানা দ্বিতীয় শতরান। জয়ের পর তাঁর প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত ঈশান বলেন, ‘ও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। তাই ওকেই বেশি স্ট্রাইক দিচ্ছিলাম। শ্রেয়সের ধুমধাড়াক্কার জন্য আমার কাজটা সহজ হয়ে পড়ে। ও অসাধারণ খেলল।’ তাৎপর্যের হল, যে দুই ক্রিকেটার জুটি বেঁধে জেতালেন এদিন, সেই দু’জনই কয়েক বছর আগে শৃঙ্খলাজনিত কারণে বোর্ডের কুনজরে ছিলেন। এই জয় বোঝাল, সময় কী দ্রুতই না বদলায়!