


উনিশ শতক যেন বাঙালির কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনও আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না। আরও একবার আমরা ফিরে তাকাব আমাদের অতীতের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে।
রাজা ভট্টাচার্য: দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে আজ ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় আর উৎসাহের শেষ নেই। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব ঠিক করেছেন, তিনি থিয়েটার দেখতে যাবেন।
একে তো সাধারণ ভদ্রলোকেরাই থিয়েটার দেখতে সংকোচ বোধ করেন। ও কেবল মাতাল আর খারাপ মেয়েদের আড্ডা— এই হল তাঁদের মনোভাব। তার উপর ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস! তিনি যে যুগাবতার!
ঠাকুর অবশ্য যথারীতি হাসিমুখে মাথা নাড়ছেন, ‘হ্যাঁ গো, কোথায় বসে ভালো করে দেখা যাবে বল দেখি! মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের লীলা চোখের সামনে দেখব, এ কী কম কথা?’
চুনিলাল বললেন, ‘এক টাকার সিটে বসাই ভালো হবে, কী বলেন রামবাবু?’
রাম মাথা নেড়ে বললেন, ‘তা কেন হে? ঠাকুর বসবেন বক্সে।’
‘আর যাব কেমন করে?’ রামকৃষ্ণদেবের
সরল প্রশ্ন।
‘আপনি আমার গাড়িতে যাবেন। পথ কম নয়,’ বললেন মহেন্দ্র মুখুজ্যে।
চুনিলাল সদ্য বৃন্দাবন থেকে ফিরেছেন। চৈতন্যলীলা দেখার উৎসাহ তাঁরই বেশি। মাস্টার, অর্থাৎ মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত কিন্তু সসংকোচে বললেন, ‘সত্যিই যাবেন? খারাপ মেয়েরা সব নাচগান করবে, চৈতন্যদেব বা নিতাই সাজবে...।’
শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে কথা শেষ করতে দিলেন না। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমি তাদের মা আনন্দময়ী দেখব।’
এরপর অবশ্য আর কথা চলে না। তবু মাস্টারের কপালে যে এক ফালি অনিচ্ছার রেখা লেগে রইল, তা বুঝতে রামকৃষ্ণের অসুবিধা হল না। মনে মনে হাসতে লাগলেন তিনি। বেদান্তের অভেদ কি আর ঝপ করে রপ্ত হয় বাবা?
....
রোজকার মতো গঙ্গাস্নান সেরে ঘরে ফিরে হবিষ্যান্ন রাঁধতে বসলেন বিনোদিনী। আজ আবার সন্ধ্যায় চৈতন্যলীলার শো আছে। আবার সেই লোক ভেঙে পড়া, টিকিট না পেয়ে মানুষের হাহুতাশ, আর অভিনয় চলার সময় দর্শকদের বিস্মিত উচ্ছ্বাস। এ’সব এতদিনে বিনোদিনীর অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তবু প্রত্যেকবার স্টেজে ওঠার সময় তাঁর পা কাঁপতে থাকে, একটি সংলাপও যেন মনে পড়তে চায় না। তারপর মঞ্চে পা রাখেন তিনি। মুন অব স্টার থিয়েটার— বিনোদিনী দাসী কোথায় অদৃশ্য হয়ে যায়! তাঁকে যেন ক্রমশ অধিকার করে নিতে থাকেন মহাপ্রভু। মনে হতে থাকে— তিনি কোনো সামান্যা নারী নন, পতিতাগৃহে তাঁর জন্ম নয়, স্টার থিয়েটার গড়ে তুলতে গিয়ে তাঁকে কুৎসিত আপস করতে হয়নি। তিনি যেন শচীমাতার সেই পুত্রটি, একদিন যাঁর আহ্বানে আসমুদ্রহিমাচল হরিনামে মেতে উঠেছিল।
হবিষ্যান্ন রান্না করতে করতেই বিনোদিনীর ঠোঁট অল্প অল্প কাঁপতে লাগল। বোঝা যায়, তিনি আসলে নিঃশব্দে নাটকের সংলাপ আউড়ে চলেছেন।
‘এই হবিষ্যি খেয়ে আর কতদিন তুই চালাবি বিনি?’
চমকে উঠে পিছন ফিরে তাকালেন বিনোদিনী। এখন সকাল আটটাও বাজেনি। অন্তত এই সময় তিনি গিরিশচন্দ্র ঘোষের গলা আশা করেননি।
তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে গলবস্ত্র হয়ে গুরুকে প্রণাম করলেন বিনোদিনী। পরক্ষণেই তাঁর চোখে পড়ল, যে স্বাভাবিক স্নেহ তিনি গিরিশচন্দ্রের চোখে দেখতে অভ্যস্ত, তা আজ নেই। কোনো অজানা উত্তেজনায় তাঁর চোখ দু’টি বড় বড় হয়ে রয়েছে।
‘কী হয়েছে মাস্টারমশাই? আপনার শরীর যেন ঠিক সুস্থ লাগছে না!’
‘সে’কথা পরে বলছি,’ বললেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ, ‘আগে বল দেখি, তুই এসব করে চলেছিস কার কথায়?’
‘কী আবার করে চলেছি?’
‘এই ভোরবেলায় উঠে গঙ্গাস্নান, হেঁটে যাতায়াত করিস তাও শুনেছি, তার উপর আবার এই হবিষ্যি খাওয়া ধরেছিস!’
বিনোদিনী সামান্য লজ্জা পেলেন। তাঁর মতো নারীর যেন এসব মানায় না। মাথা নীচু করে বললেন, ‘‘এই ‘চৈতন্যলীলা’ নাটকে যবে থেকে আপনি আমাকে নিমাই সাজালেন, সেই থেকেই অন্য কিছু খেতে ইচ্ছে করে না। গঙ্গাস্নান করে সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলে, তবেই মঞ্চে উঠতে ইচ্ছে করে আমার।’’
একটা নিঃশ্বাস ফেলে গিরিশ বললেন, ‘আজকাল কী সব যে হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। যাক গে, খবর শুনেছিস?’
এইবার বিনোদিনী তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কীসের খবর? আমি আপনাকে দেখেই বুঝেছিলাম, কিছু একটা গন্ডগোল আছে।’
‘গন্ডগোল নয়! ভয়ানক গন্ডগোল!’ উত্তেজনা চাপার চেষ্টায় এবার গিরিশচন্দ্রের গলা কেঁপে গেল, ‘‘আজ নাকি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ‘চৈতন্যলীলা’ দেখতে আসবেন!’’
বিনোদিনীর চোখ বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে গেল, ‘তিনি সন্ন্যাসী মানুষ। লোকে বলে, তিনি নাকি কলিযুগের অবতার। তিনি এই স্টার থিয়েটারে আসবেন আমাদের অ্যাক্টো দেখতে? সত্যিই?’
‘প্রথমটা শুনে আমারও বিশ্বাস হয়নি। আমরা হলাম সমাজের সবচেয়ে নীচের তলার লোক— এমনটাই শুনে আসছি সারা জীবন ধরে। বাড়িওয়ালা ঘর ভাড়া দিতে চায় না, মেয়ের বাপ মেয়ে দিতে চায় না। লোকে পয়সা দিয়ে আমাদের অভিনয় দেখে, কিন্তু রাস্তায় দেখলে সরে দাঁড়ায়। এতদিনে কি সেই কলঙ্ক ঘুচতে চলল রে বিনি?’
দীর্ঘক্ষণ গিরিশচন্দ্রের বিভ্রান্ত আর্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে থেকে খুব শান্ত গলায় বিনোদিনী বললেন, ‘যদি তিনি সত্যিই আসেন, তাহলে কিন্তু সবকিছু পালটে যাবে মাস্টারমশাই। আপনি দেখে নেবেন!’
....
সন্ধ্যায় স্টার থিয়েটারের আলো জ্বলে উঠল রোজকার মতোই। আজও থিয়েটারে তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রতিটি আসন পূর্ণ। বিনোদিনী একবার পর্দার পাশ দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে ফিরে এলেন। এই জনারণ্যে বিশেষ কাউকে খুঁজে বের করা অসম্ভব।
থার্ড বেল বাজল। শুরু হল নাটক। শুরুতে শ্রীচৈতন্যের বাল্যলীলা। বিনোদিনী ‘রাধা বই আর নাইকো আমার, রাধা বলে বাজাই বাঁশী’ গান গাইতে গাইতে স্টেজে ঢুকলেন। নিজের নিজের সিটে সোজা হয়ে বসলেন দর্শকেরা। তাঁরা জানেন, এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন তাঁরা সবাই।
আর বিনোদিনী আবার বুঝতে পারলেন, ক্রমে তাঁর সমস্ত অস্তিত্বের দখল নিচ্ছেন নবদ্বীপের সেই মহাপুরুষ— গৌরাঙ্গ। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব। ক্রমে আবছা হয়ে আসছে সামনে বসে থাকা দর্শকদের অবয়ব। এই পৃথিবী যেন মায়ামাত্র। সত্য শুধু এই গান, এই অভিনয়, রাধার জন্য এই তীব্র আকুলতা। স্বয়ং রাধাকৃষ্ণই যে যুগলাবতার ধারণ করে মর্তে নেমে এসেছেন! মহাপ্রভু যে একই দেহে রাধা
আর কৃষ্ণ!
ক্রমে এগতে লাগল অভিনয়। চৈতন্যরূপী বিনোদিনী এবার নিতাইকে বললেন,
‘মিলে দু’টি ভাই দেশে দেশে যাই
হরিনাম চল রে বিলাই
হরিপ্রেমে সঁপিয়াছি প্রাণ
নদীয়ার কার্য সমাধান
চল যাই মিছে কেন করি দেরি!’
হঠাৎ বিনোদিনীর কানে ভেসে এল এক আশ্চর্য মধুর কণ্ঠস্বর। কে যেন বলে উঠল, ‘হরিবোল! হরিবোল!’
এ কার কণ্ঠস্বর? বিনোদিনীর সর্বাঙ্গ একবার শিউরে উঠল।
কিন্তু এখন এদিকে মন দিলে চলবে না। শচীমাতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এবার সন্ন্যাস গ্রহণের পালা। শচী স্বভাবতই হাহাকারে ভেঙে পড়ছেন। কিন্তু সেই হাহাকার শুনে সংসারে থেকে যাওয়া যে নিমাইয়ের পক্ষে সম্ভব নয়! তিনি বলছেন—
‘কৃষ্ণ বলে কাঁদো মা জননী
কেঁদো না নিমাই বলে
কৃষ্ণ বলে কাঁদিলে সকলি পাবে
কাঁদিলে নিমাই বলে নিমাই হারাবে।’
দর্শক আসন থেকে উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলেন কোনও মহিলা। বিনোদিনী বুঝতে পারলেন, তাঁর বুকের মধ্যে গুরগুর শব্দ হচ্ছে। আজ যেন তাঁর অভিনয় অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাচ্ছে কোনো অদৃশ্য ইঙ্গিতে।
এইবার সেই গান। নিজের সমস্ত চেতনাকে একটি বিন্দুতে নিহিত করে বিনোদিনী গাইতে আরম্ভ করলেন—
‘হরি মন মজায়ে লুকালে কোথায়
আমি ভবে একা, দাও হে দেখা প্রাণসখা
রাখ পায়।’
সামনের অন্ধকার থেকে এইবার ভেসে আসছে উচ্ছ্বসিত কান্নার শব্দ। আবেগের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে গোটা হল জুড়ে। মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত গান গাইতে গাইতে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিনোদিনী। হঠাৎ তাঁর মনে হল, তাঁরও তো এই পৃথিবীতে আসলে কেউ নেই। এমন কেউ নেই, যে বিনা স্বার্থে, শুধু ভালোবেসে তাঁর মাথায় স্নেহের হাত রাখতে পারে। যেন নিঃসীম অন্ধকারে, জনহীন অরণ্যের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর জীবনের কোনো লক্ষ্য নেই। তাঁর বেঁচে থাকার কোনো চরিতার্থতা নেই।
আজও নাটক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনোদিনীর জ্ঞানহীন শরীর আছড়ে পড়ল মঞ্চের উপরে। ছুটে এলেন সহ-অভিনেতারা। শুরু হল পরিচর্যা।
আধো-অজ্ঞান অবস্থাতে বিনোদিনী আবার শুনতে পেলেন সেই আশ্চর্য মধুর কণ্ঠ। এখন সেই মানুষটি বলছেন, ‘হরি গুরু, গুরু হরি!’
এ কার গলা! বিনোদিনীর আচ্ছন্ন ভাব কেটে যাচ্ছিল দ্রুত। কোনোক্রমে দুর্বল অসাড় শরীরটাকে টেনে তুললেন তিনি। মঞ্চে উঠে আসছেন এক অতি সাধারণ-দর্শন গ্রাম্য পুরুষ। তাঁর পরনে সাদামাটা পোশাক, চাদরটা কোমরে জড়ানো, একগাল কাঁচাপাকা দাড়ি, মুখে শিশুর মতো কোমল হাসি। বিহ্বল স্বরে তিনি কেবলই বলে চলেছেন, ‘হরি গুরু, গুরু হরি।’ মাথার পিছনে স্পটলাইট জ্বলছে, তাই সেই পুরুষটিকে মানুষ নয়, এক জ্যোতির্ময় অবয়ব বলে মনে হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উঠে আসছেন আরো কয়েকজন ভদ্রলোক। তাঁদের মুখেও আবেগতাড়িত হাসি।
‘এই ছেলেটি বুঝি মহাপ্রভুর ভূমিকায় অভিনয় করছিল?’ বললেন অগ্রবর্তী পুরুষটি। এমন সস্নেহ কণ্ঠস্বর কখনো শোনেননি বিনোদিনী।
ইতিমধ্যেই অবশ্য এগিয়ে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করেছেন গিরিশচন্দ্র। বলছেন, ‘আজ্ঞে পুরুষ নয়! এ একটি মেয়ে। ওর নাম...।’
খুব অবাক হয়ে তিনি বললেন, ‘মেয়ে! বেশ ঠকিয়েছ যা-হোক! তোমার নাম কী মা?’
ইনিই তাহলে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব! আর দ্বিধা না রেখে অবশ শরীরটাকে কোনোক্রমে তাঁর পদপ্রান্তে নামিয়ে আনলেন বিনোদিনী। দু’হাত দিয়ে চেপে ধরলেন অসম্ভব গৌরবর্ণ পা দুটো।
এইবার তাঁর মাথার উপরে নেমে এল দু’টি স্নেহ-ভরা কোমল হাত। বিনোদিনীর মনে হল, তাঁর সর্ব অঙ্গ দিয়ে যেন স্বর্গের অমৃতধারা বয়ে গেল। তাঁর সমস্ত জীবনের পাপ ধুয়ে যাচ্ছে সেই অমৃতের বর্ষায়।
‘চৈতন্য হোক। তোমার চৈতন্য হোক। হরি গুরু, গুরু হরি!’ বললেন তিনি।
সম্মোহিতের মতো বিনোদিনী প্রতিধ্বনি করলেন, ‘হরি গুরু, গুরু হরি।’
কত কথা বলে চলেছেন গিরিশচন্দ্র! বলছেন, ‘আজ আপনার আগমনে নাট্যশালা ধন্য হল। আর কেউ কখনো একে নরককুণ্ড বলবে না। আশীর্বাদ করুন গুরুদেব!’
‘চৈতন্য হোক! চৈতন্য হোক!’ বলে চলেছেন তিনি।
‘নাটক কেমন লাগল?’ পেছন থেকে জিজ্ঞাসা করলেন দাশরথি
আগের মতোই হাসতে হাসতে রামকৃষ্ণদেব বললেন, ‘আসল নকল সব এক হয়ে গেছে গো!’
আবার সর্বাঙ্গ শিউরে উঠল বিনোদিনীর। ইনি অন্তর্যামী। ইনি বুঝতে পেরেছেন— বিনোদিনী অন্তর থেকে মহাপ্রভু হয়ে উঠতে পেরেছেন। অন্তত আজ তিনি সর্ব অস্তিত্ব দিয়ে শ্রীচৈতন্য হয়ে উঠেছিলেন।
রামকৃষ্ণদেবের কিছুটা পিছনেই দাঁড়িয়েছিলেন মাস্টার। মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত। ঠাকুরের নিত্যদিনের সব বাণী লিখে রাখছেন তিনি। নাম দিয়েছেন ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত’। এই মুহূর্তে তাঁর চোখে তীব্র দ্বিধার দৃষ্টি।
এক বারাঙ্গনাকে সস্নেহে মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ— এই দৃশ্যটি তিনি তাঁর বইয়ে রাখবেন না— ঠিক করলেন তিনি। ভক্তদের ভালো লাগবে না এমন কথা।
তাতে অবশ্য ক্ষতি হবে না কোনো। মহাকাল লিখে রাখবেন এই আশ্চর্য ইতিহাসের মুহূর্তকথা। প্রবাদের মতো যুগ যুগ ধরে উচ্চারিত হবে এক নটীর পূজার কথা, আর এক তপস্বীর আশীর্বাণী—
‘চৈতন্য হোক! চৈতন্য হোক!’