সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ফের রেল শহর খড়্গপুরে মাফিয়া রাজ। বুধবার দিনেদুপুরে শ্যুট আউটে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। গুলিবিদ্ধ হয়েছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। বছর পনেরোর ওই ছাত্রের নাম অক্ষয় ঝা। বুধবার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এদিন সকাল এগারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে খড়্গপুর শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের গিরি ময়দান স্টেশন সংলগ্ন ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায়। এখনও পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে এদিন সন্ধ্যায় জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। তিনি এও জানিয়েছেন, সাতটি টিম গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজে জেলাজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও। এদিকে, পুজোর আগেই এই ধরনের ঘটনা ঘিরে খড়্গপুর শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে সাগর রাও নামে এক যুবকের স্কুটির পিলিয়নে বসে অক্ষয় টিফিন করতে বেরিয়েছিল। সেই সময়ই অন্য একটি স্কুটিতে করে দুজন দুষ্কৃতী এসে তাদের লক্ষ্য করে দু’ রাউন্ড গুলি চালায়। গুলি লেগে জখম হয় স্কুটির পেছনে বসে থাকা অক্ষয়। তার বুকের ঠিক উপরে কাঁধের কাছে গুলি লাগে। দ্রুত অক্ষয়কে উদ্ধার করে খড়গপুরের রেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। স্কুটির চালক সাগর রাওকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও ছ’ জনকে আটক করা হয়। সাগর জানায়, দুষ্কৃতীদের মাথায় টুপি আর মুখে মাস্ক ছিল। তারা পরপর দু’ রাউন্ড গুলি চালায়। দ্বিতীয় গুলিটি লাগে অক্ষয়ের বুকের কাছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অক্ষয় নয়, বছর বাইশের সাগরই ছিল দুষ্কৃতীদের টার্গেট। অল্পের জন্য তাদের টার্গেট মিস হয়। ঘটনার পিছনে দুই গ্যাংয়ের বিবাদ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। স্থানীয় বাসিন্দারাও তেমনটাই জানাচ্ছেন। জখম অক্ষয়ের বাবা প্রদীপকুমার ঝা রেলকর্মী। অপরদিকে, সাগরের বাবা প্রসাদ রাও নিহত রেল মাফিয়া শ্রীনু নাইডুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০২২ সালের ২৭ জুন ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকাতেই মাতা মন্দিরের কাছে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে শ্রীনুও গুলিবিদ্ধ হয়েই খুন হয়। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার ডি বাসন্তী জানান, ‘অক্ষয়ের বাবা প্রদীপবাবু আমার স্বামীর বন্ধু। তবে, সাগরের বাবা প্রসাদ রাও রেল মাফিয়া শ্রীনুর গ্রুপের লোক ছিল।’ সাগরও ইদানিং একটি গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁরা বলেন, শ্যুট আউটের মধ্য দিয়ে দুষ্কৃতীরা কার্যত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। গত শুক্রবারই শহরের ইন্দাতে দিলীপবাবু মন্তব্য করেছিলেন, ‘খড়্গপুর শহরে গুন্ডারাজ বন্ধ করে দিয়েছি আমরা। খড়্গপুরের মানুষ আগে গুন্ডা-মাফিয়াদের গুলি চালাতে দেখেছে। এখন থেকে পুলিশকে গুলি চালাতে দেখবে।’ জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি দেবাশিস ঘোষের কটাক্ষ, ‘মুখে বলা সহজ। শহরবাসী কাজে দেখতে চায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর খড়্গপুর শহরে চুরি-ছিনতাই বেড়ে গিয়েছে।’ বিজেপি কাউন্সিলার অভিষেক আগরওয়াল বলেন, ‘তবে আমাদের আমলে দুষ্কৃতী কার্যকলাপ অনেক কমে গিয়েছে।’



