নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশন গ্রাহকদের পুজো প্যাকেজের খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তার জন্য সোমবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন সত্ত্বেও রেশন দোকানগুলি খুলে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল খাদ্যদপ্তর। মঙ্গলবার খাদ্যভবনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে পুজো প্যাকেজ দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। এখনো পর্যন্ত রেশন দোকান থেকে খুবই কম পরিমাণ দেওয়া হয়েছে। চিনি ১.৬৮ শতাংশ, ময়দা ২.১ শতাংশ ও সুজি ০.০৭ শতাংশ বণ্টন হয়েছে। ডিলারদের বক্তব্য, তিনটি সামগ্রী একসঙ্গে অনেকসময় সরবরাহ হচ্ছে না। যেরকম আসছে সেইমতো গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার দেওয়ার সময় ই-পস মেশিনে গ্রাহকের আধারের বায়োমেট্রিক যাচাই করতে হচ্ছে। খাদ্যদপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটর বা হোলসেলারদের কাছে ৮৭.২৫ শতাংশ চিনি, ৭২.৫৬ শতাংশ ময়দা পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু সুজি পৌঁছেছে মাত্র ৪.৭০ শতাংশ। পুজোর সময় পণ্যবাহী গাড়ির যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পুজো প্যাকেজের খাদ্যের গাড়ি যাতে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকে তার জন্য খাদ্যদপ্তর থেকে জেলাশাসকদের বলা হয়েছে। পুজো প্যাকেজ দেওয়ার জন্য আগামী রবিবার মহাসপ্তমীর দিন রেশন দোকান পুরো সময় খোলা থাকবে। এদিকে পুজোর মাসে রেশন গ্রাহকদের গমের স্বাভাবিক সরবরাহ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত জুন মাস থেকে সংশোধিত রেশন এলাকায় আটার বদলে গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। ওইসময় ইতিমধ্যে রেশন দোকানে সরবরাহ হয়ে যাওয়া প্রচুর আটা আর গ্রাহকদের দেওয়া যায়নি। ওই আটার বড়ো অংশ পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন খাদ্যদপ্তর ওই আটা অ্যাডজাস্ট করতে গিয়ে গম সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, খাদ্যদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এটা হলে অনেক গ্রাহক কম গম পাবেন অথবা কেউ হয়তো পাবেনই না, এরকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।



