


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সবেমাত্র পাঁচদিন কেটেছে নয়া জিএসটি যুগের। জিএসটি হ্রাসের জেরে পণ্য ক্রয় বিপুল বেড়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন— উভয় মাধ্যমেই কেনাকাটা অন্তত ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ বেড়েছে বলে জানাচ্ছে একাধিক সমীক্ষা। বণিকসভা ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সমীক্ষায় আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই প্রবণতা আগামী দেড় মাসে আরও বাড়বে। কারণ, গ্রামীণ ও শহুরে নাগরিকের ট্যাক্সবাবদ ব্যয় অন্তত তিন শতাংশ কমে যাবে। সেই টাকা তারা উৎসবের মরশুমে বাজারে আনবে। মার্কেট রিসার্চ ফার্ম রেডসির সমীক্ষায় চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বিগত পাঁচদিনের যে ক্রয় প্রবণতা, সেখানে সবথেকে আশাব্যঞ্জক আভাস হল, দেশের মেট্রো শহরের পাশাপাশি টায়ার বি এবং সি গ্রেডের যে ছোট শহর অর্থাৎ মফস্বল শহরগুলিতেও বিগত বছরের তুলনায় অফলাইন ও অনলাইন কেনাকাটা বেড়ে গিয়েছে।
বেছে বেছে ঠিক নবরাত্রির দিন অর্থাৎ উৎসবের দিনগুলি শুরু হওয়ার প্রাক্কালেই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে জিএসটি সংস্কার। যে মরশুমে দেশজুড়ে কেনাকাটার জোয়ার আসে, সেই সময়েই ২৮ এবং ১২ শতাংশ জিএসটির ধাপ বাতিল করার জেরে বহু পণ্যের দাম এক ধাক্কায় কমে গিয়েছে। এই সময়কে বেছে নেওয়ার আরও একটি কারণ হল, এই উৎসবের মরশুমে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বিশেষ ডিসকাউন্ট সপ্তাহ অথবা ছাড়পক্ষ ঘোষণা করে। সুতরাং একদিকে এইসব অনলাইন শপিং সংস্থার নিজস্ব ছাড় এবং তার সঙ্গে আবার জিএসটি কমে গিয়েছে বহু নিত্য ও ভোগ্যপণ্যের। এই দুই সুযোগ একসঙ্গে চলে আসায় ক্রয়প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। অ্যামাজন সংস্থার সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, জিএসটি কমে যাওয়ার পরবর্তী চারদিনেই ৩৮ কোটি সম্ভাব্য ক্রেতা বিভিন্ন অনলাইন কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেছে, পছন্দ-অপছন্দ করেছে, অর্ডার করেছে, রিটার্ন করেছে এবং বদল করেছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা তথা বাংলার কেনাকাটা এই প্রবণতায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কেট রিসার্চ সংস্থা রেডসিরের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রধানত পোশাক, নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য, এফএমসিজি পণ্য অর্থাৎ সাবান, শ্যাম্পু, পারফিউম, তেল, সাজসজ্জার প্রোডাক্ট, হস্তশিল্প, গৃহসজ্জা, আসববাপত্র বেশি বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বহু দিন পর গাড়ি বুকিং এবং গাড়ির দরদাম নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া কিংবা কোটেশন নেওয়ার প্রবণতাও ঊর্ধ্বমুখী। সবথেকে বেশি লাভ হয়েছে, যে পোশাক অথবা পণ্যের দাম ১ হাজার থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। সেই কারণেই মেট্রো শহরগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কেনাকাটা বেড়েছে মফঃস্বল, আধা মফঃস্বলে।
ভারতের মতো গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভর দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যর চালিকাশক্তি হল, ছোট ও মাঝারি শহর, মফঃস্বল এবং গ্রামীণ এলাকায় ক্রয়-বিক্রয়। এই স্থানগুলিতে পণ্যের চাহিদা বাড়লে অর্থনীতির আবর্তন হয় অনেক দ্রুত। ঠিক তাই ঘটছে অন্তত এই উৎসবের মরশুমে। যা চলবে দীপাবলি, ভাইফোঁটা,ছট পুজো পর্যন্ত।