


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জিএসটির হার কমানোকে দীপাবলির উপহার হিসেবেই প্রচার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে, ক্রেতা টানতে ধনতেরাস ও দেওয়ালিকে কেন্দ্র করে হরেক অফার চালু করেছে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে উৎসবের মধ্যগগনে জমজমাট কেনাকাটা। বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি থেকে গয়নার বাজার সবেতেই ভালো ব্যবসার সুফল পাচ্ছে বণিকমহল।
গত বছরের তুলনায় এবার সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তে চলেছে বলে মনে করেন অল ইন্ডিয়া ব্যাপার মণ্ডল এবং কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়শনসের প্রেসিডেন্ট সুশীল পোদ্দার। তাঁর কথায়, বিগত কয়েকবছর ধরে দেশ তো বটেই, প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই জিএসটি আদায় বাড়ছে। এর থেকে প্রমাণিত হয়, মানুষ পণ্য বেশি কিনছেন। পশ্চিমবঙ্গেও জিএসটি আদায় রেকর্ড করেছে। গতমাসে যেভাবে জিএসটির হার কমানো হয়েছে, তাতে কেনাকাটা আরও বাড়বে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই আমার ধারণা, এবার গাড়ি থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন বা ভোগ্যপণ্যের বাজার দিপাবলি উপলক্ষ্যে যথেষ্ট ভালো যাবে। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী মহল ক্রেতাদের থেকে সদর্থক সাড়া পেতে শুরু করেছে।
খোসলা ইলেকট্রনিক্সের কর্ণধার মণীশ খোসলার কথায়, যেদিন থেকে জিএসটির হার কমেছে, সেই দিন থেকেই ক্রেতাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। গত সপ্তাহের শেষে বিক্রিবাটা যথেষ্ট ভালো হয়েছে। সেই ট্রেন্ড চলছে। এর অন্যতম করণ, ক্রেতারা আর্থিকভাবে সত্যিই লাভবান হচ্ছেন। আমরা দেখছি, ৩২ ইঞ্চির টিভি থেকে ক্রেতারা ৪৩ ইঞ্চি টিভির দিখে বেশি ঝুঁকছেন জিএসটির সুবিধা পেতে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রবণতা এর আগে এতটা দেখা যায়নি। সত্যি কথা বলতে, এতটা সুবিধা ক্রেতারা আগে কখনও পাননি। একদিকে জিএসটিতে ছাড়, অন্যদিকে তিন থেকে চারটি ইএমআই ছাড়। বৈদ্যুতিন সংস্থাগুলিও আলাদা করে বিভিন্ন পণ্যের উপর অফার ঘোষণা করেছে। এরই সঙ্গে আমরাও উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দিচ্ছি। পরিস্থিতি এমনই, বর্ষা শেষে মৃদুমন্দ শীতল হাওয়া বইতে শুরু করলেও আর্থিক সুবিধার কারণে এসি বিক্রিতেও ভাটা নেই। এখন আর অফ সিজন বলে কিছু নেই, এটাই যেন প্রমাণ করছে উৎসবের অফারগুলি।
প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে সোনার দামে রেকর্ড হলেও ব্যবসাবৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদী ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। সংস্থার সিইও (ইন্ডিয়া) শচীন জৈনের কথায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সঙ্গে তুলনা করলে এবার সেপ্টেম্বর শেষে সোনার দাম বেড়েছে ৫১ শতাংশের বেশি। সোনার দোকানগুলিও চিন্তায় ছিল তাদের বিক্রিবাটা নিয়ে। কিন্তু এখন তারা প্রচুর গয়নার সম্ভার হাজির করেছে বেশি বিক্রির আশায়। ভারতে সবচেয়ে বেশি গয়না বিক্রি হয় ধনতেরাস এবং দীপাবলিকে কেন্দ্র করেই। কারণ, ভারতীয়দের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে সোনার সঙ্গে। এবারও তার অন্যথা হবে না। পাশাপাশি আসন্ন বিয়ের মরশুমের কেনাকাটার একটা বড়ো অংশও সংগঠিত হবে এই সময়ে, আশাবাদী শচীন জৈন। তাঁর কথায়, শুধু গয়না নয়, ডিজিটাল গোল্ড, গোল্ড ইটিএফ এবং সোনার কয়েন বা বারের বিক্রিও ভালো হবে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে।