নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, নিউ মার্কেটের তুলনায় কলকাতার অভিজাত শপিং মলগুলো এখনও ক্রেতাদের জন্য অনেকটাই নিরাপদ। চলতি পুজোর মরশুমে লালবাজারের গ্রেপ্তারির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এমনটাই দাবি লালবাজারের গোয়েন্দাদের একাংশের। এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি গোয়েন্দারা বলছেন, শপিং মলের ঝাঁ চকচকে পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের ‘আকার-আকৃতি’ মেলাতে পারছে না পকেটমার-কেপমাররা। তাই শপিং মল এড়িয়েই চলছে তারা।
এবারের প্রাক পুজো কেনাকাটা পর্বে, লালবাজারের ওয়াচ শাখার গোয়েন্দারা গুজরাত গ্যাং, ঝাড়খণ্ডের তিন পাহাড়ি গ্যাং এবং পশ্চিম বর্ধমানের পান্ডবেশ্বর গ্যাংয়ের সদস্য মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। যার মধ্যে ১৫ জন মহিলা। এই ধৃতদের সিংহভাগই কিন্তু পাকড়াও হয়েছে গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, নিউ মার্কেট এবং বড়বাজার এলাকা থেকে। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার গড়িয়াহাটে।
তাই গোয়েন্দারা বলছেন, পুজো মার্কেটিংয়ের শেষপর্বে আপনি কি ঢুঁ মারতে চলেছেন বাজারে? তবে সাবধান! একটু সতর্ক থাকুন। চোখ-কান খোলা রাখুন। অন্তত গড়িয়াহাট, হাতিবাগানে গেলে তো কথাই নেই। কারণ, এই সব মার্কেটে ভিড়ের মাঝে ওঁত পেতে রয়েছে ভিনরাজ্যের পকেটমার-কেপমারদের দল। মোবাইল, মানিব্যাগ সামলে চলুন। ভিড়ের মাঝে সুন্দরী মহিলার অযাচিত ছোঁয়ায় ‘বিগলিত’ হলে, পকেট কিন্তু ফাঁকা হতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর পুজোর কেনাকাটা শুরুর আগে থেকেই লালবাজারের ওয়াচ শাখার গোয়েন্দাদের একাধিক টিম কলকাতার গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, হাতিবাগানে ক্রেতাদের ভিড়ে মিশে ভিনরাজ্য থেকে আসা পকেটমার, মহিলা কেপমার, মোবাইল লিফটারদের ওপর গোপনে নজরদারি চালিয়ে থাকেন। এছাড়াও নজরদারি চলে, কলকাতার গেস্ট হাউস, হোটেল এবং ধরমশালাগুলিতে। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ‘চলতি পুজোর মরশুমে লালবাজারের গোয়েন্দারা এখনও পর্যন্ত গুজরাত গ্যাংয়ের তিনজন সহ মোট ১৫ মহিলাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছেন। এই মহিলাদের সিংহভাগই গ্রেপ্তার হয়েছে গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, হাতিবাগান এবং বড়বাজার থেকে।’ ধৃতদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার হয়েছে।
অন্যদিকে, শিয়ালদহে নজরদারি চালানোর সময় লালবাজারের গোয়েন্দারা ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত তিন পাহাড়ি গ্যাংয়ের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। ধৃতদের কাছ থেকে মোট ১০টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমানের পান্ডবেশ্বর গ্যাংয়ের চারজনকেও পাকড়াও করেছে লালবাজার। তাদের কাছ থেকে মোট ১২টি মোবাইল
উদ্ধার হয়েছে।



