নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শহরজুড়ে হোটেল এবং গেস্ট হাউসে ধরপাকড় শুরু করেছিল কলকাতা পুরসভা। দমকল, পুলিশ, পুরসভাসহ বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক নিয়ে গঠিত টিম ফায়ার এবং সেফটি অডিট শুরু করেছিল। পরিদর্শনে গিয়ে এই দু’ক্ষেত্রে গাফিলতি দেখলেই ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছিল ক্লোজার নোটিস। ফলে বন্ধ হয়ে যায় একের পর এক হোটেল এবং গেস্ট হাউস। বিষয়টি নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেল কলকাতা পুরসভা। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, এভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বা শুনানি না করে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া যায় না। আদালতে কার্যত মুখ পুড়িয়ে সতর্ক পুর কর্তৃপক্ষ। তাই ঠিক হয়েছে, আপাতত শহরের হোটেল এবং গেস্ট হাউসে পরিদর্শন বন্ধ রাখা হবে। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে একটি যৌথ টিম গড়েন। পুরসভার বিল্ডিং, লাইসেন্স বিভাগ ছাড়াও পুলিশ, দমকল, কেএমডিএ, সিইএসসিসহ একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে সেই টিম গঠিত হয়। তাদের স্ক্যানারে ছিল লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় ৪৫০০টি হোটেল এবং গেস্ট হাউস। পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে প্রায় ১১০০টি জায়গায় ভিজিট করে ৯১৯টির বেশি হোটেল এবং গেস্ট হাউসকে ক্লোজার নোটিস দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় তালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, প্রথমেই ব্যবসা এভাবে সিল করে দেওয়া যায় না। হিয়ারিংয়ের নোটিস দিতে হয়। কাগজপত্র জমা করতে বলতে হয়। বিষয়টি কমিশনার তথা প্রশাসককে বোঝানো হয়েছিল। সতর্ক করা হয়েছিল যে আদালতে মুখ পুড়তে পারে। কিন্তু প্রশাসক সেই আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁদের। যথারীতি একাধিক হোটেলের মালিকপক্ষ কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। তার ভিত্তিতে উচ্চ আদালত স্পষ্ট বলেছে, এভাবে একটা ‘কন্টিনিউয়াস প্রসেস’ বন্ধ করে দেওয়া যায়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা দরকার। আগে হিয়ারিং নোটিস দেওয়া উচিত ছিল। ভুল শুধরানোর সময় দেওয়াও দরকার। মালিকপক্ষ কাগজপত্র জমা করতে না পারলে চরম পদক্ষেপ করা যেত। তার আগে কীসের এত তাড়াহুড়ো, প্রশ্ন তুলেছে কোর্ট। তাই ভিজিট আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, যে হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলি পুনরায় চালুর তোড়জোড় চলছে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি হাইপাওয়ার কমিটি। কী কী বিষয় শুধরে নিতে হবে, তার স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্লোজার নোটিস পাওয়া ৩০০টি হোটেল এবং গেস্ট হাউস ফের ব্যবসা চালুর আবেদন জানিয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র জমা করতে বলা হয়েছে। সেসব সন্তোষজনক হলে ফের ব্যবসা চালুর অনুমোদন মিলবে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘সেফটি অডিট পুনরায় চালুর ভাবনাচিন্তা চলছে। কোর্টের অর্ডার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তেমন হলে যেখানে যেখানে খামতি ধরা পড়বে, তাদের আপাতত হিয়ারিং নোটিস দেওয়া যায় কি না, তাও ভাবা হচ্ছে।’