সংবাদদাতা রানাঘাট: রেল কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক কড়া নির্দেশে ইতিমধ্যেই স্টেশন চত্বরগুলিতে শুরু হয়েছে বেআইনি দোকান উচ্ছেদের কাজ। কোথাও হকাররা স্বেচ্ছায় দোকান সরিয়ে নিচ্ছেন আবার কোথাও চলছে রেলের বুলডোজার। স্টেশনের এই হকার উচ্ছেদ অভিযানের জেরে এবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শান্তিপুরে চলন্ত ট্রেনের হকারেরা। যারা মূলত ট্রেনে ট্রেনে খাদ্যদ্রব্য, পানীয় জল, নানান টুকিটাকি ও গৃহস্থালির জিনিসপত্র বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
যদিও শান্তিপুরের চলন্ত ট্রেনের হকারদের সরাসরি এখনও কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র মারফত তারা জানতে পেরেছেন যে, রেলে এবার কড়া নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। বৈধ টিকিটধারী যাত্রী ছাড়া অন্য কোনো হকার বা ভিক্ষুককে ট্রেনের কামরায় উঠতে দেওয়া হবে না। নিয়ম অমান্য করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং দিতে হবে জরিমানাও।
শান্তিপুর রেল শাখায় প্রায় শতাধিক হকার রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক মহিলা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী। দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে তাঁরা সংসার চালাচ্ছেন। অনেকের পরিবারে তাঁরাই একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই রেলের এই কড়াকড়ি জেনে কাজ হারানোর ভয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন তাঁরা।
শান্তিপুরের পাঁচপোতা এলাকার বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ মন্ডল জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করে ট্রেনে হকারি করছেন। বাড়িতে উপার্জনের ব্যক্তি বলতে তিনি একাই। বাড়িতে ছেলে, মেয়ে, স্ত্রীও ষাটোর্ধ্ব মা আছেন। মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। এখন রেলের এই নিয়মে পড়ে যদি কাজ করতে না পারি, তাহলে মায়ের রোগের চিকিৎসা করাতে পারব না এবং ছেলেমেয়েগুলোকে পড়াশোনা করাতে পারব না। না খেতে পেয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।
ট্রেনে গজা বিক্রেতা শান্তিপুর মনোনগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সন্তু সাহা জানান,“এখনও পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের সেভাবে কিছু জানায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছি ও শুনতে পাচ্ছি। আমাদের বেচাকেনা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের মত হকারদের যদি ট্রেনে কেনাবেচা বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ, তাহলে বড় আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে হবে। আমার বাড়িতে আমাকে নিয়ে চারজন সদস্য। দুই ছেলে পড়াশোনা করে এবং স্ত্রী আছে বাড়িতে। বাড়িতে উপার্জন করা ব্যক্তি আমি একাই। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ভরসা আছে। আশা করি তিনি কোনো একটি বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্যই করে দেবেন”।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রুটি-রুটি বাঁচাতে এবং ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে শান্তিপুর হকারের একটি প্রতিনিধি দল রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারের দ্বারস্থ হন। হকাররা তাঁদের অসহায়তার কথা সাংসদের কাছে তুলে ধরেন। হকারদের সমস্ত অভাব অভিযোগ শোনার পর সাংসদ তাঁদেরকে আশ্বস্ত করেন এবং একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর দেন। তিনি জানান, ট্রেনে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে যদি কোনো হেনস্তা বা বড়সড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তবে যেন সরাসরি ওই নম্বরে তাঁকে জানানো হয়। তিনি জানান, এই ব্যাপার নিয়ে ডিআরএম এর সঙ্গে কথা বলবেন। যেন তাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা যায়। -নিজস্ব চিত্র