শান্তি সমিতির ‘মানতের দেবীর’ পুজোয় জড়িয়ে রয়েছে আবেগ
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: কারও মনস্কামনা পূরণ হলে দেবীর কপালে পরিয়ে দেন সোনার টিপ, আবার কেউ মানত পূরণে বহন করেন দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের সম্পূর্ণ খরচ। এই বিশেষ রীতির জন্যই নবদ্বীপ ব্লকের মাজদিয়া বেলডাঙার শান্তি সমিতির দুর্গা মা ‘মানতের দেবী’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালে শুরু হওয়া এই পুজোকে ঘিরে এলাকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এবছর নতুন থিমের মণ্ডপসজ্জায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করতে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা।

Advertisement

এবার এই পুজোর থিম ‘শান্তির শ্বেত মন্দির’। নেপালের একটি মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে এই মণ্ডপ। নান্দনিক কারুকাজে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপটি। আর কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির মৃৎশিল্পীরা সাবেকি প্রতিমা সম্পূর্ণ মাটির সাজে সাজিয়ে তুলছেন। এবছর প্রতিমা তৈরির খরচ বহন করছেন ক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক খোকন দেবনাথ।
এখানে পুজোর আচারেও রয়েছে বিশেষত্ব। ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমীতে অন্ন পুষ্পান্ন খিচুড়ি সহ নানা পদে ভোগ নিবেদন করা হয়। তবে নবমীতে ঘরের মেয়ে উমাকে ৫১ পদ নিবেদনের রীতি রয়েছে। অষ্টমীতে পুজো মণ্ডপ থেকে  সকল দর্শনার্থীকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দ্বাদশীতে শোভাযাত্রা সহকারে ভাগীরথীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
পুজো উপলক্ষে প্রতি বছর মণ্ডপ প্রাঙ্গণে মেলা বসে। এবছর ১২ অক্টোবর থেকে মেলা শুরু হবে। ওই দিন দুপুরে পুজোর উদ্বোধনে উপস্থিত থাকতে পারেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক মহাদেব সরকার, নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী, কৃষ্ণনগর উত্তর ও দক্ষিণের বিধায়ক তারক চট্টোপাধ্যায়, সাধন ঘোষ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উদ্বোধনের দিন বস্ত্র বিতরণ করা হবে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে  প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় কচিকাঁচাদের নিয়ে নাচ, গান ও আবৃত্তির অনুষ্ঠানে থাকবে।
ক্লাব সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ বলেন, বাসিন্দাদের আর্থিক সহযোগিতায় পুজোর খরচের একটা বড় অংশ উঠে আসে। শান্তি সমিতির সভাপতি বিভাস দেবনাথ বলেন, এই পুজোকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে আলাদা আবেগ রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী এই পুজো মণ্ডপে ভিড় করেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তথা পুজো কমিটির সম্পাদক তাপস দেবনাথ বলেন, আমাদের বিশ্বাস, যাঁরা মায়ের কাছে মানত করেন, তাঁদের মনস্কামনা পূরণ হয়। পুজোর দিনগুলিতে স্থানীয় মহিলারা উপবাস থেকে পুজোর সমস্ত আয়োজন নিজে করেন।