Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিন দফায় সাত মোবাইল উদ্ধার, দমদম সেন্ট্রাল জেলে নিরাপত্তা ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

সুরক্ষার বলয়ে মোড়া সংশোধনাগার। সেখানেই গত ন’দিনে তিনটি অভিযানে উদ্ধার হল সাত-সাতটি ফোন

তিন দফায় সাত মোবাইল উদ্ধার, দমদম  সেন্ট্রাল জেলে নিরাপত্তা ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: সুরক্ষার বলয়ে মোড়া সংশোধনাগার। সেখানেই গত ন’দিনে তিনটি অভিযানে উদ্ধার হল সাত-সাতটি ফোন। চীনা কোম্পানির খুব ছোটো ফোন থেকে শুরু করে নামকরা কোম্পানির ফাইভ জি ফোন রয়েছে সেই তালিকায়। একের পর এক ফোন উদ্ধারের ঘটনায় দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, জেলের মধ্যে ‘প্রোটেকশন মানি’ বেশ কিছুটা বেড়ে গিয়েছে! ওই টাকা দিয়ে জেলের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার, নেশা ছাড়াও নানা অনৈতিক সুযোগ সুবিধা মেলে বলে খবর। 

Advertisement

জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংশোধনাগারের ৩/৩ ও ১/২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দু’টি ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার হয়। দু’দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর সদ্য দমদম জেলে ঢোকা এক ইউটিপি (আন্ডার ট্রায়াল প্রিজনার) আরিয়ান রাজা খান ওরফে মায়ার কাছ থেকে একটি ছোটো ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার হয়। আদালতে শুনানির পর পুলিশ এসকর্টে ওই দিন সন্ধ্যায় মায়া জেলে ঢুকেছিল। জেল কর্তৃপক্ষের তল্লাশিতে ওই ফোন উদ্ধার হয়েছিল। শুক্রবার অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সংশোধনাগারের ৩/২ ওয়ার্ড থেকে চারটি ফোন ও বেশ কয়েকটি সিমকার্ড উদ্ধার হয়। তার মধ্যে সস্তার কি-প্যাড ফোনের পাশাপাশি ফাইভ-জি ফোনও রয়েছে। পরপর মোবাইল উদ্ধারের ঘটনায় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোনো আসামিকে সংশোধনাগারে ঢোকানোর সময় শরীর ও তাঁর সঙ্গে থাকা যাবতীয় সামগ্রী স্ক্যান করা হয়। হাত দিয়ে পরীক্ষার পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর দিয়েও খতিয়ে দেখা হয়। তারপরও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ফোন উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। 
সূত্রের খবর, কোনো বন্দি সংশোধনাগারে ঢুকলে ভালো খাবার, অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার গ্যারান্টি হিসাবে ‘প্রোটেকশন মানি’ দিতে হয়। ওই টাকার অঙ্কও কিছুটা বেড়ে ন্যূনতম সাত হাজার টাকা হয়েছে। এর থেকে যারা যত বেশি টাকা দিতে পারছে, তার সুবিধাও তত বেশি মিলছে। জেলের মধ্যে থাকা ‘বস’ আসামিদের তাই এখন ‘পোয়া বারো’। পালাবদল পরবর্তী জমানায় ধৃত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের থেকেও ভালোরকম ‘প্রোটেকশন মানি’ আদায় করা হচ্ছে বলে খবর। তাছাড়া, ন্যূনতন ‘প্রোটেকশন মানি’র কয়েক গুণ বাড়তি টাকা দিলে নেশার দ্রব্য থেকে শুরু করে ফোনে কথা বলার সুযোগ—সবই মিলছে জেলের মধ্যেই।  যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, গত ছ’মাস ধরে প্রতিটি ওয়ার্ডে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেই কারণেই ওই সব আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হচ্ছে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ