সংবাদদাতা, ঝালদা: দীর্ঘ চার বছরের আইনি টানাপোড়েনের পর ঝালদার পুরনো থানায় অগ্নিকাণ্ডের মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার বিপ্লব কয়াল সহ সাত অভিযুক্ত। বুধবার পুরুলিয়ার অ্যাডিশনাল থার্ড কোর্টের এজলাসে মামলাটির রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি অম্বরীশ ঘোষ। আদালতের এই রায়ে স্বস্তি ফিরেছে অভিযুক্তদের।
২০২২ সালের ১৩ মার্চ ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলার তপন কান্দু খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। এর মধ্যেই ১১ এপ্রিল ঝালদা শহরে অন্নপূর্ণা মায়ের বিসর্জনের শোভাযাত্রা চলাকালীন ঝালদার পুরনো থানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। থানার চত্বরে বাজেয়াপ্ত করে রাখা একাধিক মোটরবাইকে আগুন ধরে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে থানার একাংশেও। দমকল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই পুরনো থানাতেই ঝালদা শহরের একাধিক এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত থাকায় ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। পুলিশের অভিযোগ ছিল, অন্নপূর্ণার শোভাযাত্রা চলাকালীন সেখান থেকে পটকা ছোড়া হয় এবং সেই পটকা থেকেই থানার চত্বরে রাখা বাজেয়াপ্ত মোটরবাইকে আগুন লাগে। এই ঘটনায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কংগ্রেস কাউন্সিলার বিপ্লব কয়ালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পরে বিপ্লব ঘনিষ্ঠ আরও ছ’ জন নীতেশ কয়াল (বিপ্লবের দাদা), জগদীশ চন্দ্র, তাপস চন্দ্র, উদিত চন্দ্র, বিশ্বজিৎ দত্ত ও আনন্দ চন্দ্র অভিযুক্ত হন। তৎকালীন ঝালদা থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষের সময়ে মামলাটি হয়। আইসি ট্রান্সফার হয়ে নতুন আইসি এলে চার্জশিটও পেশ করা হয়। ২০২২ সালে এফআইআরে বিপ্লব কয়ালের নাম থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
বিপ্লব কয়ালের দাবি, ঝালদার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে একের পর এক মামলায় তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর পুরুলিয়ার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি এবং ৬২ দিন জেল খাটার পর জামিন পান। পরবর্তী সময়ে মামলায় আরও অনেকের নাম যুক্ত করে তদন্ত এগোয় বলে তাঁর দাবি।
রায় ঘোষণার পর বিপ্লব কয়াল বলেন, ‘মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। আজ আদালতের রায়ে আমরা বেকসুর খালাস পেলাম।’ একই সঙ্গে তৎকালীন আইসি সঞ্জীব ঘোষের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথাও জানান তিনি। চার বছর পর আদালতের রায়ে সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলার নিষ্পত্তি হল।