Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামাঞ্চলে সক্রিয় স্বঘোষিত নেতারা, ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর নিয়ে বিজেপিতেই দ্বন্দ্ব

ময়দান কার্যত ফাঁকা। তাতে ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করে গা ঘামাতে নেমে হোঁচট খাচ্ছে পদ্ম শিবির।

গ্রামাঞ্চলে সক্রিয় স্বঘোষিত নেতারা, ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর নিয়ে বিজেপিতেই দ্বন্দ্ব
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ময়দান কার্যত ফাঁকা। তাতে ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করে গা ঘামাতে নেমে হোঁচট খাচ্ছে পদ্ম শিবির। কো-অর্ডিনেটরদের নিয়ে শিলিগুড়ি শহরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল দানা বেঁধেছে। শুধু শহর নয়, গ্রামেও সদ্য স্বঘোষিত কিছু নেতাকে নিয়ে দলে বাড়ছে অসন্তোষ। অভিযোগ, যোগ্যদের বঞ্চিত করে পুরভোটে কো-অর্ডিনেটরদের এবং পঞ্চায়েত ভোটে ওই নেতাদের প্রার্থী করার ছক কষা হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এর সঙ্গে ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। 

Advertisement

বিজেপি নেতারা যাই বলুন না কেন শহরে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ ঘিরে দলে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা গৌতম দেব মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় পুরবোর্ড ভেঙে দেয় রাজ্য সরকার। বর্তমানে পুরসভা পরিচালনা করছে প্রশাসক। আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে এখানে পুর নির্বাচনের সম্ভাবনা। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেস ছন্নছাড়া। কংগ্রেস কার্যত নেই। বামফ্রন্ট ময়দানে থাকলেও তেমন ভেলকি দেখাতে পারছে না। 
এমন প্রেক্ষাপটে জনসংযোগের জন্য ৪৭টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করেছে বিজেপি। তাতে প্রাক্তন পাঁচ কাউন্সিলার, গত পুর নির্বাচনের বেশ কয়েকজন প্রার্থী, আর একঝাঁক নতুন মুখ রয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, ওই তালিকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে বহু পুরনো কর্মীর নাম নেই। বিশেষ করে ১, ২, ২৩, ২৪, ৩০, ৩৫, ৪৪ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড সহ একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিনের কর্মীরা নিজেদের উপেক্ষিত বলে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, দলের দুর্দিনের এবং পুরনো কর্মীদের বঞ্চিত করে কো-অর্ডিনেটরদের পুরভোটে প্রার্থী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 
মঙ্গলবার দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলের ডাকা বৈঠকে বিজেপি নেতা দীপঙ্কর অরোরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁকে কো-অর্ডিনেটর করা হলেও তিনি পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না। দলে যোগ্য কর্মীদের সুযোগ দেওয়া উচিত। জেলা কমিটির এক সদস্যেরও দাবি, কো-অর্ডিনেটর তালিকা প্রকাশের পর দলের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যা পুর নির্বাচনের আগে দলে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। 
দলের জেলা সভাপতি অবশ্য বলেন, এটি কোনোভাবেই পুরসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা প্রদান ও মানুষের পাশে থাকার জন্য পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতেই কো-অর্ডিনেটরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পুরসভা নির্বাচনের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হবে। কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডে থাকবে বা কোন ওয়ার্ড সংরক্ষিত হবে, তা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই কো-অর্ডিনেটরের তালিকাকে প্রার্থী তালিকা হিসাবে দেখার কোনো কারণ নেই। 
অন্যদিকে, আর একবছরের মধ্যেই শিলিগুড়িতে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোট। এখন মহকুমা পরিষদে সভাধিপতি নেই। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও নিষ্ক্রিয়। এই অবস্থায় গ্রামবাসীদের পরিষেবা প্রদানে গ্রামে গ্রামে বিজেপির ছত্রছায়ায় একাংশ কলকাঠি নাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে খোদ দলের কাছে নালিশ জানিয়েছেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বিজেপির অজয় ওরাওঁ। তিনি বলেন, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর স্বঘোষিত অনেক বিজেপি নেতা হয়েছেন। এরা দলের ক্ষতি করছে। এ বিষয়ে দলের জেলা কমিটিকে জানিয়েছি। এরবাইরে দলে কোনো সমস্যা নেই। বর্ষার মরশুমে গ্রামবাসীদের সহায়তায় গ্রামে গ্রামে দলের প্রকৃত  কর্মীরা মাটিকামড়ে পড়ে আছেন। 
বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি বলেন, দল সবটাই লক্ষ্য রাখছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ