Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অজিতের গাড়ির চালকদের বাড়িতে তল্লাশি, উদ্ধার নিয়োগ দুর্নীতির নথি

বুধবার ভোরে পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতির গাড়ির দুই চালকের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালাল পুলিশ

অজিতের গাড়ির চালকদের বাড়িতে তল্লাশি, উদ্ধার নিয়োগ দুর্নীতির নথি
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: বুধবার ভোরে পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতির গাড়ির দুই চালকের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালাল পুলিশ। খড়্গপুর গ্রামীণের কালিয়াড়ার বাসিন্দা প্রণব মণ্ডল এবং মাদপুরের বাসিন্দা অমল ভুঁইয়ার বাড়িতে এদিন ভোর সাড়ে ৪টে থেকে তল্লাশি চালানো হয়। মোবাইল, ল্যাপটপ সহ নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল নথি উদ্ধার হয়েছে। ‘পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চাকরিপ্রার্থীদের নাম’ লেখা একটি ফাইল এবং চাকরি প্রার্থীদের অজস্র বায়োডাটা ও বিভিন্ন শংসাপত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের এক আধিকারিক। যা নিয়ে জেলায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আতঙ্কে কাঁপছেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ জেলার বহু তরুণ ও তরুণী!

Advertisement

সূত্রের খবর, ধৃত অজিতবাবু সহ বিভিন্ন তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ধরে অনেকে আইসিডিএস সহ জেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ নথিতে সেই পর্দা-ফাঁস হতে পারে। মমতা-তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিতবাবু দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি পদেও আছেন। ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত পিংলার বিধায়কও ছিলেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। তাঁর মাধ্যমে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অনেকেই চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ বিজেপির। এদিন সন্ধ্যায় জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, দুই চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
মঙ্গলবারই নিয়োগ-দুর্নীতি মামলায় অজিতকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে চার দিনের হেপাজতে নিয়েছে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ। খড়্গপুর-২ ব্লকের কালিয়াড়া অঞ্চলের বাসিন্দা বরুণ দে অজিতবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৫সালের জুলাই মাসে তাঁর স্ত্রী অর্চনা দে-কে আইসিডিএস সুপারভাইজারের চাকরি দেওয়ার নাম করে পাঁচ লক্ষ টাকা নেন অজিতবাবু। সেই মামলাতেই অজিতবাবুকে চারদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তার আগে গত শুক্রবার বিজেপি নেতা গোবিন্দ দাসের করা ১৫ লক্ষ টাকায় দলীয় পদ বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অজিতবাবুকে তাঁর মাদপুরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পিংলা থানার পুলিশ। সেই মামলায় মঙ্গলবার জামিন পেয়েছেন তিনি। 
বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অমূল্য মাইতি বলেন, তোলাবাজি ও কাটমানি নেওয়া ছাড়াও অজিতবাবু টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ ও চাকরি বিক্রি করেছেন। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে উনি যুক্ত। নথিপত্র খতিয়ে দেখলেই সব পরিষ্কার হবে। অজিতবাবুর আইনজীবী মৃণালকান্তি চৌধুরী বলেন, সবগুলোই ভুয়ো মামলা। শুনছি আরও দু’-তিনটি এমন ভুয়ো মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ