


সঞ্জয় রায়: মনসিজ মুড়ির ঠোঙার গায়ে আধছেঁড়া মেধার ছবিটা দেখেই চমকে উঠল। ‘সন্ধান চাই’ বিভাগে ছাপা হয়েছে এটুকু সে বুঝতে পারল। ছেঁড়া কাগজে বাকিটুকু দেখতে পেল না। অচেনা অজানা মেধার সঙ্গে মনসিজের আচমকাই পরিচয় হয়েছিল। দু’জনেই ছিল লালগোলা প্যাসেঞ্জারের যাত্রী। শিয়ালদহ স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে ট্রেনে উঠতে গিয়ে মেধার ব্যাগটা ছিটকে পড়েছিল। ওই ভিড়ের মধ্যে মনসিজ মেধাকে একটু সাহায্য করেছিল। তারপর দু’জনেই জানলার ধারে মুখোমুখি বসার দুটো আসন পেয়ে গিয়েছিল। মনে মনে মনসিজ ভেবেছিল, যাক এতটা দূরত্ব যেতে হবে, সময়টা বেশ ভালোই কেটে যাবে।
সুশ্রী শ্যামবর্ণা মেধাকে দেখে মনসিজের বেশ সপ্রতিভ মনে হয়েছিল। ঝকঝকে শহুরে স্মার্ট মেয়েদের দলে পড়া মেধা সানগ্লাসটা কপালে তুলেই মনসিজের সাহায্যের জন্য একটা ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ দিয়েছিল। মনসিজও নিয়মমাফিক বলেছিল ‘ওয়েলকাম’। একেবারে সঠিক সময়েই ট্রেন স্টেশন ছেড়েছিল। কারশেড ছেড়ে ক্রমশ গতি বাড়াতে শুরু করেছিল। হকারদের কলকাকলি, পেঁয়াজ-মুড়ি মাখার গন্ধ, বাচ্চার চিল-চিৎকারে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রখর তাপে কামরার ভেতরটা যেন আরও তেতে উঠেছিল। মেধা লাল হয়ে যাওয়া দুটো গালে টোল ফেলে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আপনি কতদূর যাবেন?’
স্মিত হেসে মনসিজ জবাব দিয়েছিল, ‘রানাঘাট।’
‘আপনি বুঝি ওখানে চাকরি করেন?’
‘না, অফিসের একটা কাজে আমাকে ওখানে যেতে হচ্ছে।’
‘ওহ্।’
‘আর আপনি?’
‘আমি কৃষ্ণনগর।’
‘আপনি কি ওখানে চাকরি...।’
মনসিজকে থামিয়ে দিয়ে মেধা বলে উঠেছিল, ‘ধরে নিন আমি এমনিই যাচ্ছি। জানেন, আমি মাঝেমধ্যে এরকম উদ্দেশ্যহীন বেরিয়ে পড়ি।’
মেধাকে থামিয়ে দিয়ে মনসিজ বলে ওঠে, ‘কী করেন আপনি?’
‘কিছুই না। ওই ঘুরে বেড়াই। অবশ্য একটা এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত আছি। ওদের কাজেও মাঝেমধ্যেই আমাকে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতে হয়। আসল কথা হল, আমি জীবনটাকে খুঁজে বেড়াই।’
‘জীবনকে খুঁজে বেড়ান! কথাটার মানেটা তো ঠিক বুঝতে পারলাম না!’
‘এই ধরুন জীবনকে খোঁজা মানে জীবনের রহস্য... যেমন, এই যে আমরা কেবলই ছুটে চলেছি সেটা কীসের জন্য! সংসারের মায়া মমতায় জড়িয়ে থাকা জীবনটা আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে আমরা কেবলই পরশপাথরটিকে খুঁজেই চলেছি...।’
মেধাকে থামিয়ে দিয়ে মনসিজ বলে ওঠে, ‘বাহ, আপনি তো বেশ সুন্দর কথা বলেন! জীবন সম্পর্কে এমন গভীর বোধের কথা তো আজকাল মাঠে ঘাটে কেউ বলে না! ওইসব খালি এখন লেখকদের গল্পেই খুঁজে পাই।’
‘আপনি গল্প পড়েন?’
‘পড়ি। অল্পবিস্তর। আবার মাঝেমধ্যে লিখিও।’
‘আপনি গল্প লেখেন! হোয়াট আ সারপ্রাইজ!’
মেধার চেঁচিয়ে ওঠায় মনসিজ লজ্জায় মাথা নীচু করে বলে, ‘না, তেমন কিছু নয়। তবে জীবন থেকে উঠে আসা সত্য-মিথ্যাগুলো সাজিয়ে গল্পের জাল বুনতে আমার বেশ ভালো লাগে। সেরকম কিছু নয়। ওই আর কী, শখের কলমচি বলতে পারেন।’
দ্রুতগতিতে ট্রেন বাইরের প্রকৃতিকে পিছনে ফেলে রেখে ছুটেই চলেছে। কয়েকটা স্টেশন ‘গ্যালপ’ করল। গুড়ুম গুড়ুম শব্দে রেলব্রিজ পেরল। দিগন্তের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে চেয়ে থেকে মেধা বলল ‘আপনার ছেলেমেয়ে ক’টি? মিসেস কী করেন?’
মেধার কথায় মনসিজ যেন আকাশ থেকে পড়ল।
‘ছেলেমেয়ে, বউ! ধুর, আমি বাসা না বাঁধা পাখির দলে। আরে সক্কলেই যদি ওই ছাদনাতলাকেই জীবনের সবটুকু ভেবে বসে তাহলে কী করি বলুন তো! তা আপনি বিবাহিত না অবিবাহিত! দেখুন কিছু মনে করবেন না, আজকাল তো মুক্ত হাওয়ায় বাঙালি মেয়েদের ম্যারেটেরিয়াল স্ট্যাটাসটা ঠিকমতো ঠাহর করা যায় না!’
মনসিজের কথায় মেধা হো হো করে একগাল হেসে ওঠে।
‘বাহ, আপনি বেশ বলেন তো। জানেন, আমি যদি নারী সংগঠনের কেউকেটা হতাম তাহলে আপনার কথার তীব্র প্রতিবাদ করতাম। আপনার এই কথায় যেকোনো মেয়েই আপনাকে একেবারে তুলোধুনো করে ছেড়ে দেবে।’
‘ও বাবা, সেটা তো ভেবে দেখিনি!’
পরিবেশটা খানিক হালকা করতে মেধা বলে উঠল, ‘এই দেখুন কথায় কথায় আপনার নামটাই জানা হয়নি। আমি মেধা আর আপনি?’
‘আমি মনসিজ। মনসিজ মুখার্জি।’
‘আচ্ছা, মনসিজ শব্দের মানে কী?’
‘মনসিজ অর্থে মদন বা কামদেব।’
‘বাঃ বাঃ, আপনার জীবনটা যে এমন নারীবিহীন নিষ্কাম তা ভাবাই যায় না!’
মনসিজ খানিক লজ্জিত মুখে মেধার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল, ‘দেখুন, নামের সঙ্গে যে সামগ্রিক জীবনের মিল হতেই হবে তা তো নয়। ছেলেবেলায় বাবা-মা শখ করে সন্তানের নাম রাখেন। তা বলে কানা ছেলের নাম কি পদ্মলোচন হতে পারে না!’
‘নাহ, সত্যিই আপনার মতো মানুষের সঙ্গে কথায় পেরে ওঠা মুশকিল। আপনারা লেখক মানুষরা বেশ গুছিয়ে কথা বলতে পারেন।’
দু’জনের কথায় কথায় ট্রেন নৈহাটি জংশনে এসে দাঁড়াল। মনসিজ একজন চা-ওয়ালাকে ডেকে জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দু -ভাঁড় চা কিনল।
‘আরে আরে দাঁড়ান, আমি পে করে দিচ্ছি।’
‘আহা, আপনি দেবেন কেন! চা-ওয়ালাকে আমিই ডেকেছি। তাই আমিই পয়সাটা দেব।’
‘ট্রেনে একটানা বসে থাকতে থাকতে মাথাটা খুব ধরেছিল। চা-টা হয়ে বেশ ভালোই হল,’ তৃপ্তির চুমুক শেষে মেধা এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলল।
ট্রেন আবারও গতি বাড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। ক্রমশ ট্রেনের কামরার ভিতরে পাল্লা দিয়ে ভিড় বাড়ছে। জানলার ধারে আসন পাওয়ায় দু’জনের কারওরই কামরার ভিতরকার উত্তাপ গায়ে এসে লাগছে না। জানলা দিয়ে আসা ঝোড়ো বাতাসে ওরা দু’জনেই ছুটে চলেছে গন্তব্যের উদ্দেশে।
ঠোঙা হাতে নিয়ে সাদাকালো ছবিটা দেখতে দেখতে মনসিজের সেদিনের সেই ট্রেন ভ্রমণের স্মৃতিগুলো একের পর এক জড়ো হতে লাগল। সেদিন মেধা জীবন সম্পর্কে তাঁর গভীর অনুভবগুলো এক-এক করে শুনিয়ে গিয়েছিল। মেধা বলেছিল, ‘দেখুন, মনসিজবাবু জীবনটা আমাদের কাছে এক একটা ট্রেন জার্নির মতোই। একের পর এক স্টেশনে নেমে যাওয়া, আবার উঠে আসা। নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয়। ট্রেনের কামরাগুলোও যেন এক একটা সংসার। হকারদের চিল চিৎকার আর ভিখারিদের হাহাকার, আবার কোনো এক কোণে বসে কোনো এক সুন্দরী তাঁর প্রিয়জনের মানভঞ্জনে ব্যস্ত! তখন বাইরে পিছনে ফেলে চলেছি একের পর এক দৃশ্যপট।’
মেধার কথাগুলো শুনতে শুনতে মনসিজ হঠাৎই বলে উঠেছিল, ‘আপনার মতো মানুষদের সত্যিই লেখক হওয়ার প্রয়োজন ছিল। জানেন, জীবনে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও একটা দর্শন আঁকড়ে ধরতে হয়। অথচ আমাদের শিক্ষিত মানুষজনেরাই তো জীবনদর্শনকে জলাঞ্জলি দিয়ে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে খানিক ক্ষুণ্ণিবৃত্তির আশায় নৈতিকতা-অনৈতিকতাকে পাশ কাটিয়ে একের পর এক খারাপ কাজ করে চলেছে। জানি, এই দুনিয়ায় পাপ-পুণ্য বলে কিছু হয় না। তবুও মানুষ হিসেবে এই ভুবন জুড়ে খানিক ভালো কাজের নিদর্শন কি আমরা রেখে যেতে পারি না! আগামী প্রজন্ম যাতে বুঝতে পারে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যেতেই একসময় মানুষের দল কিঞ্চিৎ ভালো কাজ করে গেছে।’
‘তবুও দেখুন মনসিজবাবু, এতসব জ্ঞানের কথা কি কেউ বোঝে! সবাই নিজের ভালো চায়। আর তার জন্য জগৎ জোড়া যেকোনো কাজেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভালোমন্দ বাছবিচার করার সময় তখন থাকে না।’
এতশত কথা বলতে বলতেই কখন যে মনসিজের গন্তব্যস্থল এসে গিয়েছিল খেয়াল করেনি। মেধার কথায় সংবিৎ ফিরেছিল।
‘ওই যে আপনার স্টেশন এসে গেছে!’
চলভাষ নম্বরের বিনিময় সেরে হুড়মুড়িয়ে মনসিজ ট্রেন থেকে নেমে পড়েছিল। স্টেশনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়েছিল মেধাকে।
আজ মেধার ছবিটা দেখতে পেয়েই হঠাৎ সেভ করা ফোন নম্বরটার কথা মনে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে মেধার নম্বরটায় ফোন করল। সুইচড অফ। একজন নিখোঁজের তালিকায় নাম উঠে যাওয়া মেয়ের ফোন সুইচড অফ থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিটা কাদের দেওয়া কিংবা যোগাযোগের নম্বর কোনো কিছুই ওই আধছেঁড়া কাগজটা থেকে মনসিজ উদ্ধার করতে পারল না। ট্রেনে মনসিজের সঙ্গে কথায় কথায় মেধা কৃষ্ণনগরের কয়েকটা জায়গার নাম বলেছিল। এনজিওতে কাজের সূত্রে মেধা ওখানে প্রায়ই যায়। ওইসব নামের সূত্র ধরেই মনসিজ একদিন কৃষ্ণনগরে যাওয়ার মনস্থির করল। অবশ্য এর আগে সে একবার বরানগরে যাবে। কারণ মেধা ওর বাড়ি বরানগর বলেছিল। পাড়ার নামটাও মনে আছে।
ছুটির দিনে সাতসকালেই বেরিয়ে পড়েছিল মনসিজ। মেধার বরানগরের ভাড়া বাড়িতে খোঁজ করাতে বলেছিল, ‘দিদি অনেকদিনই এখান থেকে চলে গেছেন। উনি তো এখানে একাই থাকতেন।’
মনসিজের এরপরের গন্তব্য কৃষ্ণনগর। একদিন সকাল ছ’টা দশের কৃষ্ণনগর লোকালে চেপে বসেছিল মনসিজ। মেধার মতো একটা অজানা-অচেনা মেয়ের জন্য সে এত ছোটাছুটি শুরু করল কেন এমন কথা ভেবেই মনসিজ নিজের মনেই বেশ লজ্জা পেল। আসল কথা, সাক্ষাতের প্রথম দিন থেকেই মেধার সপ্রতিভতা তার মনে বেশ দাগ কেটেছিল। ওর কথাবার্তা, জীবন সম্পর্কে গভীরতা, সবকিছুই মনসিজের কাছে বেশ অন্যরকম মনে হয়েছিল। অথচ নানা কাজের ব্যস্ততায় পরবর্তী সময়ে সে আর কোনোদিন মেধাকে ফোন করেনি কিংবা যোগাযোগের চেষ্টাও করেনি।
ছেঁড়া-ফাটা ঠোঙায় ছবিটা দেখে
তার ট্রেনের স্মৃতিগুলো যেন উথলে উঠেছিল!
বেলা দশটার আগেই কৃষ্ণনগরে পৌঁছে গেল মনসিজ। স্মৃতির ভাঁড়ারে মেধার প্রত্যক্ষ পরিচয় হিসেবে মনসিজের কাছে রয়েছে ছেঁড়া-ফাটা ঠোঙাখানা। সযত্নে মনসিজ ব্যক্তিগত ফাইলে রেখে দিয়েছিল। মেধার বলা গন্তব্যস্থলগুলো ধরে ধরে একের পর এক জায়গা ঘুরতে হবে। টোটোতে প্রায় মিনিট কুড়ি যাওয়ার পর প্রথম গন্তব্যে নামল মনসিজ। চায়ের দোকানের জটলায় নিজেকে সিঁধিয়ে দিল। একটা চায়ের অর্ডার দিয়ে আর পাঁচজন মানুষের সঙ্গে আলাপ জমিয়েই ব্যাগের ফাইল থেকে আধছেঁড়া ঠোঙাখানা বের করে কয়েকজন বয়স্ক মানুষের মুখের সামনে মেলে ধরে পরিচয় জিজ্ঞেস করাতে কেউই মেধাকে চিনতে পারলেন না। অনেকেই বললেন নাহ, এমন মেয়েকে তো এ চত্বরে কোনো দিনই আসতে দেখিনি! চায়ের দোকান ছেড়ে গ্রামের বেশ কিছু জায়গা ঘুরে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিল মনসিজ। মাইল খানেক দূরে এক গ্রামে টোটো থামাল। আধছেঁড়া ঠোঙাখানা নিয়ে মনসিজ অনেকের কাছেই মেধা সম্পর্কে জানতে চাইল। ছবিটা দেখে কেউই চিনতে পারল না। দিগভ্রান্ত মনসিজ শ্রান্ত মনে নিরাশ হয়ে রওনা দিল শেষ গন্তব্যের উদ্দেশে। নিস্তব্ধ গ্রামটিতে পুকুরঘাটে বেশকিছু মহিলার কাছে ছেঁড়া-ফাটা ঠোঙায় মেধার ছবিটা দেখিয়ে ওর পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইতেই অনেকে দূরে সরে পড়ল। মাঝবয়সি একজন মহিলা যেন মেধার ছবিটা দেখে চিনতে পারলেন।
‘কাগজের দিদিমণি তো আমাদের গেরামে একমাস অন্তর আসতেন। গেরামের কয়েকজন মাতব্বরের সঙ্গে কীসব গুজুর-গুজুর, ফুসুর-ফুসুর করে চলে যেতেন! মাঝেমধ্যে পার্টির লোকজনদের সঙ্গেও কতা কইতেন! অনেকের মুকেই শুনতাম দিদিমণি খুব ভালো মানুষ। তবে একন আর তাঁকে আসতে দেকি না!’
সারাদিনের ধকল শেষে মনসিজ সিদ্ধান্ত নিল নাহ, অনেক হয়েছে, এবার কলকাতায় ফিরে গিয়ে সোজা ভবানীভবনের মিসিং পার্সন স্কোয়াডেই দেখা করতে হবে। মনসিজ একদিন সেখানেই গেল। ওখানেই বড়ো-মেজো কর্তারা মনসিজের হাতে মেধার ছবি দেখেই বেশ নড়েচড়ে বসলেন। একজন কর্তা অবাক বিস্ময়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার বলুন তো! একজন দাগী আসামির ছবি নিয়ে আপনি এখানে...!’
পুলিশের বড়োকর্তাটিকে বলতে না দিয়েই মেধা সম্পর্কে সমস্ত তথ্য জানানোর পর মনসিজ বলল, ‘‘ওকে খোঁজার ক্ষেত্রে আমি আপনাদের সাহায্য করতে চাই। আর যদি জানতাম কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ‘সন্ধান চাই’ কলামে ছবিটি ছাপা হয়েছে, তাহলে অনেক আগেই আপনাদের কাছে আসতাম। প্রথমটায় আমিই মেধাকে খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আপনারাও যে ওর খোঁজে আছেন, সেকথা তো জানতাম না!’’
পুলিশের বড়ো কর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে মনসিজের মনে তখনো মেধা সম্পর্কে সিআইডি-র বলা কথাগুলো ভেসে উঠছিল।
‘দেখুন, মিস্টার মুখার্জি, মেয়ে পাচারকারী হিসেবে উনি একটা বড়ো গ্যাংয়ের পান্ডা।’
মনসিজের মনে পড়ল ট্রেনে বসে বলা মেধার কথাগুলো!
‘... এতসব জ্ঞানের কথা কি কেউ বোঝে! সবাই নিজের ভালো চায়। আর তার জন্য জগৎ জোড়া যেকোনো কাজেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভালোমন্দ বাছবিচার করার সময় তখন থাকে না।’