Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘ককরোচ’ সমর্থক ছাত্রকে আইনি নোটিস, সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত যোগীরাজ্যের ম্যাজিস্ট্রেট

জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কোনো পড়ুয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

‘ককরোচ’ সমর্থক ছাত্রকে আইনি নোটিস, সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত যোগীরাজ্যের ম্যাজিস্ট্রেট
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কোনো পড়ুয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। দেশজুড়ে সব মামলা ও তদন্তের প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। নতুন করে আর কোনো পদক্ষেপও নেওয়া যাবে না। ১ সেপ্টেম্বর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সব এফআইআর খারিজও করে শীর্ষ আদালত। তা সত্ত্বেও যন্তরমন্তরে সিজেপির প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে ৪ সেপ্টেম্বর গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে ৫ লক্ষ টাকা বন্ডের নোটিস জারি করেছিলেন গ্রেটার নয়ডার এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এই ইস্যুতে উত্তরপ্রদেশের ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে বুধবার তুলোধোনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘ওই ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে নোটিসটি জারি করলেন? আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, গোটা দেশে কোনো পড়ুয়ার বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তারপরও কী করে এত সাহস হয়?’ সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ব্যাখ্যাও তলব করা হবে। 

Advertisement

অক্ষত ত্রিপাঠী নামে গ্রেটার নয়ডার ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে নোটিস জারির ইস্যুটি এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের নজরে আনেন প্রবীণ আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। পুলিশের একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্বিতীয় বর্ষের ওই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে নোটিসটি ইস্যু করেন গ্রেটার নয়ডার এগজিটিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-৩। অভিযোগ আনা হয়, তিনি সরকার বিরোধী আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য পড়ুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছেন। সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের উসকানি দিচ্ছেন। এজন্য বিএনএসের ১৩০ ধারায় দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রকে কেন ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড দিতে হবে না, তা নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়। পরে সেই নোটিস প্রত্যাহার করা হলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে কীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ওই পদক্ষেপ করলেই, সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ওই পদক্ষেপ অবাক করা মতো ঘটনা।’ শুনানিতে ম্যাজিস্ট্রেটের ওই পদক্ষেপকে ‘ভারতের ছাত্রছাত্রীদের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ বলে কটাক্ষ করেন আইনজীবী। তিনি বলেন, নয়ডা ও উত্তরপ্রদেশের কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের মধ্যে এভাবে ‘ভীতি’ সৃষ্টি করতে পারে না। নোটিস প্রত্যাহার করে নিলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের বিষয়টি মুছে যায় না। একবার আদালত অবমাননা করা হলে, শুধু নোটিস প্রত্যাহার করে তা মোচন করা যায় না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ