Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

স্বেচ্ছামৃত্যুর সহায়তা বিল: ভোটাভুটির আগেই বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ব্রিটিশ আইনমন্ত্রী

রোগে ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। জীবনের আয়ু হয়তো মেরেকেটে ছ’মাস। সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য চিকিৎসকের সহায়তা নিতে পারেন একজন মরণাপন্ন রোগী। ব্রিটেনে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত বিল পেশ করেছেন লেবার নেতা কিম লিডবিটার।

স্বেচ্ছামৃত্যুর সহায়তা বিল: ভোটাভুটির আগেই বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ব্রিটিশ আইনমন্ত্রী
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: রোগে ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। জীবনের আয়ু হয়তো মেরেকেটে ছ’মাস। সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য চিকিৎসকের সহায়তা নিতে পারেন একজন মরণাপন্ন রোগী। ব্রিটেনে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত বিল পেশ করেছেন লেবার নেতা কিম লিডবিটার। নাম ‘টার্মিনালি ইল অ্যাডাল্টস বিল’। আজ, শুক্রবার এই বিলের উপর হাউস অব কমন্সে ভোটাভুটি হবে। তার আগেই বিলের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ব্রিটেনের আইনমন্ত্রী শাবানা মামুদ। খোলা চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, ‘আমি মনে করি, সরকারের উচিত জীবন বাঁচানো। প্রশাসন কখনই মৃত্যুকে পরিষেবায় পরিণত করতে পারে না।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘মৃত্যুর দাবি! ভয়ঙ্করভাবে পিছনের দিকে হাঁটছি আমরা। রোগী কতদিন বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে, তা বলতে পারেন একমাত্র তাঁর চিকিৎসক। তাই এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’ যদিও এই মন্তব্যে মামুদকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চার্লি ফেলকনার। তাঁর কটাক্ষ, ‘ধর্মীয় ভাবাবেগের কারণে এই বিলের বিরোধিতা করছেন আইনমন্ত্রী। উনি একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী। স্বেচ্ছামৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে নিজস্ব ধর্মীয় মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া বা প্রভাবিত হওয়া তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে মানায় না।’ 
Advertisement
ইতিমধ্যে এই বিতর্কিত বিলের বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন ৭৩ শতাংশ ব্রিটেনবাসী। কিন্তু প্রশ্ন তুলেছেন ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়রা। বিলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়ছেন রাজার দেশের ২৯ জন ধর্মগুরু। তাঁদের অভিযোগ, এই বিল যদি আইনে পরিণত হয়, তাহলে চাপে পড়ে দুর্বল ব্যক্তিরা নিজেদের জীবন শেষ করতে বাধ্য হবেন। চিঠিতে লন্ডনের বিশপ সহ একাধিক ধর্মীয় প্রধান জানিয়েছেন, ব্রিটেনের ২৭ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক নির্যাতনের শিকার। এই আইনের জেরে ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁদের জীবন শেষ করতে বাধ্য করা হবে। চিঠিতে হিন্দু কাউন্সিল ইউকে-র ম্যানেজিং ট্রাস্টি অনিল ভানত, গুরু নানক নিষ্কাম সেবক জাঠার সদস্য মোহিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। কিছুদিন আগেই এই বিলের বিরোধিতা করেছিলেন অনিল। পূর্ব লন্ডন মসজিদের প্রধান ইমাম শেখ আবদুল কায়ুম বলেন, ‘এই আইনের জেরে প্রবীণ, বিশেষভাবে সক্ষম ও গরিবদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যেতে পারে। এটাই সবথেকে বেশি চিন্তার।’ তাঁদের পরামর্শ, প্রবীণ দুঃস্থ, রোগীদের বরং আরও ভালো চিকিৎসা পরিষেবা কীভাবে দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা দরকার। তাহলে স্বেচ্ছামৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনাই করতে হয় না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ