নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কুড়িতে কুড়ি! সোমবার থেকে শুরু সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন (২০ জুলাই) বিদ্রোহী তৃণমূলের ২০ জনই লোকসভায় হাজির থাকবেন। বিক্ষুব্ধ এই টিম-টোয়েন্টি ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে তা ঠিক করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষে গড় সামাল দেবেন স্রেফ সৌগত রায়। রাজ্যসভায় সাগরিকা ঘোষ। কারণ, পরেরদিন মঙ্গলবার কলকাতায় ২১ জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে দলের বাকি সব সাংসদকে অবশ্যই হাজির থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সেদিন শক্তি প্রদর্শন করবেন তিনি।
স্রেফ শহিদ দিবসেই নয়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর অত্যাচারের অভিযোগে সংসদেও সরব হবে তৃণমূল। সেই মতো দলের পক্ষে আগামী ২২ জুলাই থেকে লোকসভার আট এবং রাজ্যসভার দশ সাংসদকেই অবশ্যই হাজির করানোর চেষ্টা চলছে। যদিও কোয়েল মল্লিক যেভাবে ‘নিঃশব্দ’ অবস্থান নিয়েছেন, শেষমেশ তিনি আদৌ তৃণমূলে থাকবেন কি না, নিশ্চিত নয় জোড়াফুল শিবিরও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখে যাঁদের গদ্দার বলছেন, তাঁদের একজনের ছবি সহ নাম এখনও রয়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে। তিনি বর্ধমান পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকার।
এবার বাদল অধিবেশনে কংগ্রেস, তৃণমূল সহ বিরোধীরা মূলত দু’টি বিষয়ে সরকারকে কোণঠাসা করতে তৈরি হচ্ছে। অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামি চুরি। প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি। সেই মতো বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে শীঘ্রই বৈঠক করবে। তবে তার আগে নিজের দলের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে আগামী শনিবার ১০ জনপথে কংগ্রেস সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছেন সোনিয়া গান্ধী। তিনিই কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী।
সোমবার বাদল অধিবেশন শুরুর আগের দিন ১৯ তারিখ সকাল ১১ টায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে সরকার। সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, গৌরব গগৈ, জয়রাম রমেশ উপস্থিত থাকবেন। তৃণমূলের পক্ষে উপস্থিত থাকবেন সৌগত-সাগরিকা। রবি-সোম, দুটো দিন তৃণমূলের এই দুই নেতানেত্রীকেই সামাল দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। তারপর থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা মাঠে নামবেন। যদিও বাদল অধিবেশনে তৃণমূলের ওপর আর কোনো আঘাত আসে কি না, তা নিয়ে সামান্য উদ্বেগে রয়েছে দল। কারণ, মহিলা বিদ্বেষী মন্তব্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অপমান করেছেন বলে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। দাবি করা হয়েছে, কল্যাণের সদস্যপদ খারিজের। এখন দেখার, স্পিকার কী করেন।