


তিরুবনন্তপুরম: জিতেও আনন্দ নেই কংগ্রেসের। কেরলম বিধানসভার ফল ঘোষণার পর এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত। এখনও মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঠিক করতে পারল না রাহুল গান্ধীর দল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পছন্দের লোক তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালকেই কেরলমের মসনদে বসাতে চাইছে হাই কমান্ড। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা ভি ডি সতীশন। মাঠ-ময়দান চষে কংগ্রেসকে ফের কেরলমে জেতানোর এই কারিগর আগেই মুখ্যমন্ত্রী পদ চেয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছেন, তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। অন্য কোনো মন্ত্রক তিনি নেবেন না। আর এই জটিলতায় আটকে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আতান্তরে পড়ে আজ, মঙ্গলবার কেরলম কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতিদের বৈঠক ডেকেছেন রাহুল।
সূত্রের খবর, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পদে এখন দাবিদার তিনজন— কে সি বেণুগোপাল, ভি ডি সতীশন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা। এর মধ্যে রমেশকে বিধানসভার স্পিকার করার চিন্তাভাবনা করছে কংগ্রেস। রমেশও রাজি হয়েছেন বলে খবর। তবে বেঁকে বসেছেন সতীশন। তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়েছেন। আর এখানেই অঙ্কটা জটিল হয়ে গিয়েছে। সমস্যা রয়েছে আরও। বেণুগোপাল বিধানসভার সদস্য নন। তাঁকে কোনো কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে। ছাড়তে হবে লোকসভার সদস্যপদও। ফলে বিধানসভা এবং লোকসভার উপনির্বাচন ঘনিয়ে আসবে কেরলমে। এখানেই শেষ নয়, সতীশনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেসের জোট সঙ্গী তথা ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের অন্যতম সদস্য ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)। জোটসঙ্গীর দাবিও উপেক্ষা করতে পারছে না কংগ্রেস।
এই অবস্থায় দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করার দাবি করেছে আইইউএমএল। সোমবার দলের মাল্লাপুরম জেলার সভাপতি পি আবদুল হামিদ বলেন, ‘এখনই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আরও দেরি হলে পরিণতি খুব খারাপ হবে। আশা করছি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবে।’