Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

মা সারদাকে কালীরূপে পুজো

ভক্তের কাছে নানা রূপে ধরা দেন মা কালী। তাই বিভিন্ন তিথিতে নানা রূপে মাকে পুজো করা হয়।

মা সারদাকে কালীরূপে পুজো
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

 ভক্তের কাছে নানা রূপে ধরা দেন মা কালী। তাই বিভিন্ন তিথিতে নানা রূপে মাকে পুজো করা হয়। এর মধ্যে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যায় অনুষ্ঠিত হয় ফলহারিণী কালীপুজো। এই পুজো ঘিরে অনেক পৌরাণিক গল্প রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, দেবী কালিকা মানুষের জীবনের সব কর্মফল দান করেন। শক্তি, জ্ঞান, ইচ্ছাশক্তি ও কর্মশক্তির প্রতীক তিনি। ফলহারিণী কালীপুজোর মাধ্যমে বিদ্যা, কর্ম ও অর্থভাগ্যের উন্নতি হয়। প্রেম-প্রণয়ের ক্ষেত্রে বাধা দূর হয় এবং দাম্পত্য জীবন সুখময় হয়। এই দিনেই মা সারদাকে জগজ্জননী রূপে পুজো করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। জানা যায়, সেবার দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরে ভবতারিণী মায়ের পুজো নিয়ে সবাই তখন ব্যস্ত। সেই সময় রামকৃষ্ণের নির্দেশে তাঁর ঘরেই ভাগ্নে হৃদয় একান্তে পুজোর উপাচার জোগাড় করে রাখলেন। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথির দিন এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটল দক্ষিণেশ্বরে। সেদিন রাত্রিবেলা একদিকে মন্দিরে ভবতারিণী মায়ের পুজো হচ্ছে। আর ঠিক তখন নহবত থেকে মামী সারদামণিকে হৃদয় পৌঁছে দিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরে। দরজা বন্ধ ঘরে শুরু হল এক অভিনব পুজো। আলপনা দেওয়া পিঁড়িতে জীবন্ত দেবীকে বসিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্ত্রপূত জলে অভিষেক করলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ পুঁথি থেকে জানা যায়, দক্ষিণেশ্বরের পূজারি বলেন ‘হে বালে, হে সর্বশক্তিমান অধীশ্বর মাত ত্রিপুরাসুন্দরী, সিদ্ধিদ্বার উন্মুক্ত কর, ইহার শরীর মনকে পবিত্র করিয়া ইহাতে আবির্ভূত হইয়া সর্বকল্যাণ সাধন কর।’ এরপর বিধিমতো ষোড়শ উপাদান নিবেদন শেষে বেল পাতায় নিজের নাম লিখে দেবীর চরণে অর্পণ করলেন শ্রীরামকৃষ্ণ।  দক্ষিণেশ্বরে ১৪ বছরের সুদীর্ঘ সাধনার ফলস্বরূপ নিজের জপের মালা সারদা দেবীর চরণে দিয়ে ডুবে গেলেন গভীর ধ্যানে। অশেষ শক্তি সম্পন্না সহধর্মিনী সারদাদেবী জগজ্জননী রূপে নিজের স্বামীর সেই পূজা গ্রহণ করে হয়েছিলেন সমাধি মগ্ন। সারারাত ধরে চলল এই অভিনব দেবী আরাধনা। রাত্রি শেষে শ্রীরামকৃষ্ণ পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করলেন জীবন্ত দেবীর চরণে। পুজো শেষে মা সারদা ফিরে গেলেন নহবতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ