


সুকান্ত মাহাত, মানবাজার: প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেইমতো খরচ করেছেন বিধায়ক তহবিলের টাকা। তহবিলের ৯৯ শতাংশ টাকা খরচ করে কাজের নিরিখেই ভোটের ময়দানে বাজিমাত করতে চাইছেন মানবাজারের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডু। নিজের তহবিলের কাজের পাশাপাশি মন্ত্রী হিসাবে এলাকার উন্নয়নকে প্রচারে সামনে রাখতে চাইছেন শাসকদলের প্রার্থী। তবে তৃণমূল প্রার্থী এলাকার উন্নয়নের পরিবর্তে শুধুমাত্র নিজের এবং পরিবারের উন্নয়ন করেছেন বলে দাবি বিরোধীদের। সেই সঙ্গে বিধায়িকার কাজের ব্যর্থতাকেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে গেরুয়া শিবির।
মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে পরপর তিনবার জয়ী হয়েছেন সন্ধ্যারানি টুডু। এবার চতুর্থবার তিনি ফের ভোটের ময়দানে। সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে পরপর দু’বার রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীও হয়েছেন তিনি। বিধায়িকা হিসাবে মানবাজারের পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন করতে পেরেছেন বলে দাবি তৃণমূল প্রার্থীর। তিনি বলেন, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। কোথাও স্কুলের সীমানা প্রাচীর, কোথাও স্কুল ভবন তৈরি, হাইমাস্ট লাইট এবং সোলার চালিত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল নয়, রাজ্য সরকারের মাধ্যমে মানবাজার এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। নতুন দমকল কেন্দ্র থেকে এসবিএসটিসির বাস ডিপো তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এলাকার ২০০-৪০০ মিটারের ছোটো কিছু রাস্তা ছাড়া বাকি সব রাস্তা ঢালাই করা সম্ভব হয়েছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এবং নেতারা মানবাজারে ব্যাপক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেও ওই উন্নয়ন আসলে কাগজে কলমেই হয়েছে বলে কটাক্ষ বিজেপির। এলাকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নের পরিবর্তে শুধুমাত্র বিধায়িকার নিজের ও পরিবারের লোকজনের উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি গেরুয়া নেতাদের। মানবাজারের বিজেপির প্রার্থী ময়না মুর্মু বলেন, উনি আবার উন্নয়ন করেছেন নাকি? তৃণমূল উন্নয়ন করে বলে লোক হাসবে। তিনবারের বিধায়ক, দু’বারের মন্ত্রী থাকার পরেও এলাকা ঘুরে দেখলেই তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কদমার সেতু, কুদার সেতু, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জলের ব্যবস্থা কী বিধায়ক করতে পেরেছেন? বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় উনি কী কাজ করেছেন? আদিবাসী মন্ত্রী হয়েও আদিবাসীদের জন্য তিনি কী করেছেন? তাঁর ফান্ডের সেই তালিকা কী তৃণমূল বিধায়ক দিতে পারবেন? উনি শুধুমাত্র নিজের ও পরিবারের উন্নয়ন করেছেন। ঘরের লোকজনের চাকরি হয়েছে। সিপিএমের মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনর ত্রিদিব চৌধুরী বলেন, স্কুলের সীমানা প্রাচীর করেছেন ঠিকই। কিন্তু, ছাত্র ও শিক্ষক কোথায়? প্রাচীর করেছেন ঠিকাদারের কমিশন পাওয়ার জন্য। মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসক নেই কেন? সেচ ব্যবস্থার জন্য কাজ কী করেছেন? বিধায়িকার নিজের বাড়ির ছবি ২০১১ সালের এবং এখনকার দেখলে বোঝা যাবে ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে। এলাকার আসল উন্নয়ন কিছু হয়নি। চাকরির বিষয়ে সন্ধ্যারানি বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। দলের যাঁরা যোগ্য, তাঁরাই কোটায় চাকরি পেয়েছেন।