


সমীর পড়্যা, বর্ধমান: চৈত্র মাসজুড়ে বর্ধমান শহরের বিসি রোডে সেলের বাজার বসত। ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ দখল করে দোকানদাররা পসরা সাজানোয় যানজট হতো। গত কয়েক বছর ধরে টাউন হল ও শাঁখারিপুকুর উৎসব ময়দানে সেলের বাজার সরিয়েছে পুরসভা ও প্রশাসন। সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। গত কয়েকদিন ধরে সেলের বাজারে ভালো বিক্রিবাটা হয়েছে। খুশি অধিকাংশ বিক্রেতা। অনলাইনে কেনাকাটায় আগ্রহ বাড়ায় বিক্রি আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে বলেও বিক্রেতাদের একাংশের দাবি। বিসি রোডের দু’ধারে ও বড়বাজারে কাপড়ের দোকানেও কেনাকাটা জমিয়ে চলছে। কিছুটা ছাড় দিচ্ছেন দোকানদাররা। শপিং মলগুলিও ছাড় দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে। নির্দিষ্ট টাকার কেনাকাটার উপর ‘গিফট’ও দেওয়া হয়।
বীরহাটার উৎসব ময়দানে সেলের বাজারে গিয়ে দেখা গেল, মহিলাদের ভিড় বেশি। শিশুকে কোলে নিয়েও কেনাকাটা করতে এসেছেন অনেকে। যুবক-যুবতীরাও কেনাকাটার জন্য এসেছেন। রেডিমেড জামা-প্যান্ট, শাড়ি ও কুর্তির চাহিদা বেশি। শিশুদের পোশাকেরও চাহিদা ভালো। মশারি, বেডশিটও কিনছেন অনেকে। তবে শাড়ির স্টলের সামনেই বেশি ভিড়।
নবদ্বীপ থেকে এসে সেলের বাজারে শাড়ির পসরা সাজিয়েছেন গৌরাঙ্গ দেবনাথ। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বর্ধমানে আসছি। তাঁত, হ্যান্ডলুম, সিল্ক সহ নানা ধরনের শাড়ির চাহিদা বেশি। কিছুদিন আগে টাউন হলেও বিক্রিবাটা ভালো হয়েছে। অনেকে এসে এখানে শাড়ি দেখে নবদ্বীপে আমাদের বাড়িতে কারখানায় গিয়েও শাড়ি আনেন। ক্রেতাদের সঙ্গে চেনা-পরিচিতি হয়ে গিয়েছে। অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ায় এবার বিক্রি কিছুটা কম বলেও জানান এক বিক্রেতা। পার্কাস রোডের বাসিন্দা শেখ মোক্তার বলেন, এখন রেডিমেড পোশাকের বিক্রি বেশি। অনেকেই টি-শার্ট, প্যান্ট কিনছেন। তবে অনলাইনে বিক্রি বাড়ায় আমাদের বিক্রি ও লাভ কিছুটা কমেছে। আগের চেয়ে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে এসে গত প্রায় এক মাস ধরে স্টল করেছেন আলমগীর শেখ। বেডশিট, মশারি থেকে শিশুদের পোশাক বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, অন্য সময় ভ্যানে ফেরি করি। সেলের বাজারের জন্য স্টল সাজিয়েছি। সেল শুরুর প্রথমদিনে লোকজন কম আসছিলেন। তবে শেষের দিকে ভালো ভিড় হয়েছে।
শিশুকে কোলে নিয়ে সেলের বাজারে আসা শ্রাবণী দে বলেন, সেলের সময় দাম কিছুটা কম হয়। নিজের ও মা-শাশুড়ির জন্য কয়েকটা শাড়ি কিনলাম। মেয়ের জন্য কয়েকটা ফ্রক কিনলাম। স্বামীর জন্য একটা টি-শার্ট কিনেছি। কার্জন গেট সংলগ্ন একটি শপিং মল থেকে বেরিয়ে এক যুবক বলেন, অনলাইনে কেনাকাটা করলেও হাতে দেখে কিনতেই ভালো লাগে। ছাড় দেওয়ায় দুটো জিনস ও একটা টি-শার্ট কিনলাম।
কার্জন গেট সংলগ্ন বিসি রোডের একটি পাঞ্জাবির দোকানদার বলেন, পয়লা বৈশাখের জন্য পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার চাহিদা বেশি। গরমের জন্য সূতির পোশাক কিনছেন ক্রেতারা। বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন কুর্তির দোকানদার বলেন, এখন সেলে আর আগের মতো স্টক শেষ করার জামাকাপড় বিক্রি হয় না। সেলের বাজারের জন্য আলাদা স্টক আনতে হয়। বিসি রোডে আর এক দোকানদার বলেন, উৎসব ময়দানে সেলের বাজার চলে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসা মার খেয়েছে।