Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কলকাতাগামী বাসে বস্তা বস্তা কয়েন পাচার, ধৃত বিহারের দু‌ই

বিহারের নানা প্রান্ত থেকে কলকাতার অভিমুখে সারারাতই বাস যাতায়াত করে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে

কলকাতাগামী বাসে বস্তা বস্তা কয়েন পাচার, ধৃত বিহারের দু‌ই
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

঩নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিহারের নানা প্রান্ত থেকে কলকাতার অভিমুখে সারারাতই বাস যাতায়াত করে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে। মঙ্গলবার রাতেও একের পর এক বাস যাচ্ছিল। রাত তখন বেশ গভীর। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে ডুবুরডিহি চেকপোস্টে হঠাৎই নাকাচেকিং শুরু করে দেয় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ। কলকাতাগামী একটি বাস বাংলা সীমানাতে ঢুকতেই ঘিরে ফেলে গোয়েন্দা আধিকারিকরা। যাত্রীদের বেশিরভাগই তখন ঘুমে আচ্ছন্ন। তল্লাশি চালাতেই পর্দা ফাঁস! 

Advertisement

পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট খবর ছিল ওই বাসে ভারতীয় মুদ্রা (কয়েন) পাচার হচ্ছে। সেই মতো আটঁঘাঁট বেঁধেই চিরুনি তল্লাশি চলে। সন্দেহজনক কয়েকটি  বস্তা গোয়েন্দাদের নজরে আসে। তা খুলতেই চক্ষুচড়ক গাছ! প্রতিটি বস্তায় ভর্তি কয়েন। একটাকা, দু’টাকার কয়েন বেশি হলেও ৫ ও ১০ টাকার কয়েনও ছিল। পুরো বাসে তিনটি বস্তার সন্তান পায় পুলিশ। কারা এই কয়েনের বস্তা বাসে চাপিয়ে ছিল, তাদের খোঁজ শুরু  হয়। বাসেই ছিলেন বিহারের নালন্দার দু‌ই বাসিন্দা আজিজ আনসারি ও শ্রীকান্ত কুমার। তারাই তিন বস্তা কয়েন নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ তাদের কাছে এই কয়েনগুলি নিয়ে যাওয়ার বৈধ নথি দেখতে চায়। তারা তা দেখাতে পারেনি। তারপরই দু‌’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুলটি থানায় মামলা রুজু হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কয়েনগুলি। আনুমানিক তিন লক্ষ টাকার কয়েন রয়েছে। 
যদিও পুলিশের একটি অংশের দাবি, যে দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছে তারা এই পাচার চক্রের একেবারে নিচুস্তরের কর্মী। মূল মাথারা বাসে যাতায়াত করে না। তল্লাশির হাত থেকে বাঁচতে কয়েনগুলিকে বাসে তুলে দিয়ে পিছু পিছু চারচাকা গাড়ি নিয়ে আসতে থাকে তারা। পুলিশি অভিযান দেখে তাঁরা আগেই গা ঢাকা দিয়েছে। কী কাজে এই কয়েন পাচার? পুলিশের একটি সূত্রের দাবি বেশিরভাগ কয়েনই এক টাকা ও কিছু দু’টাকার। খুব সম্ভবত কয়েন গলানোর জন্যই এগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অনেকের দাবি, দিল্লি থেকে কয়েনগুলি কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হত। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।  
বেআইনিভাবে পথে এই কয়েনের কারবার শুধু রাজস্ব ক্ষতি করে না, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। বাজারে খুচরো নোটের মতোই কয়েনেরও সমস্যা রয়েছে। পর্যাপ্ত কয়েন পাওয়া যাচ্ছে না শিল্পাঞ্চলে। এই অবস্থায় এই বিপুল সংখ্যাক কয়েন কীভাবে অভিযুক্তরা সংগ্রহ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি, নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাতে যাতায়াত করা বাসগুলির নিরাপত্তা। কেন বাসের চালক খালাসি সামগ্রীর বিষয় বিস্তারিত না জেনে বাসে তা তোলেন, সেই প্রশ্নও উঠছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ