নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দু’জনই। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। সব্যসাচী দত্ত গ্রেপ্তার হন তোলাবাজির অভিযোগে! তৃতীয়ার দিনই খুশির খবর পেলেন সব্যসাচী। মঙ্গলবার শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আর একই দিনে সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। অর্থাৎ, এবার পুজোয় সুজিতকে থাকতে হবে জেলেই।
২০১৮ সালের তোলাবাজির ঘটনায় মাস চারেক আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সব্যসাচী। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাস জানিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতার শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। এক ব্যবসায়ীর থেকে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে। এই মামলার সূত্র ধরে সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী তথা নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতেও হানা দেয় পুলিশ। উদ্ধার হয় তিন কেজি সোনার গয়না। পুলিশ আদালতে যে চার্জশিট দিয়েছিল, সেখানেও এই সোনা উদ্ধারের উল্লেখ ছিল। পরে এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় ইডি। কিন্তু এদিন তোলাবাজির সেই মামলায় জামিন পেয়েছেন সব্যসাচী।
আর সুজিতকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। প্রথমে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে জামিনের আবেদন জানান সুজিত। গত ১৭ আগস্ট শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তার দু’দিন পরই মামলা থেকে অব্যাহতি নেন বিচারপতি ঘোষ। তিনি জানান, সুজিতের এক আইনজীবী তাঁর অনুপস্থিতিতে চেম্বারে গিয়ে ব্যক্তিগত সচিবকে ফাইল দেওয়ার জন্য বলেছেন। মামলাটি তিনি ছেড়ে দেওয়ায় সেটি যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। শুনানিতে সুজিতের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির সওয়াল ছিল, তাঁর মক্কেলকে ‘অনৈতিকভাবে’ জেলে আটকে রাখা হয়েছে। ইডির দাবি ছিল, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে নিযুক্ত প্রায় ১৫০ জনের নাম ছিল। দুর্নীতির টাকা সুজিতের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। সবপক্ষের বক্তব্য যাচাই করে এদিন সুজিতের জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন বিচারপতি।



