কিয়েভ, ৪ অক্টোবর: মর্মান্তিক ঘটনা! রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের সুমি শহরে ভারতীয় সংস্থার একটি বিশাল ওষুধ কারখানা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় অন্তত ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। হামলার পর কারখানার মূল কাঠামোর বেশিরভাগ অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ড্রোন হামলার পর গোটা এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া হতে দেখা যায়।
জানা গিয়েছে, ১৯৯৮ সালে ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ রপ্তানির মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেছিল এই ভারতীয় সংস্থা। এই সংস্থা ২০০২ সালে অন্য সংস্থার ওষুধ বিতরণ বন্ধ করে নিজেদের ব্র্যান্ড বাজারজাত করতে শুরু করে। এরপর ২০০৭ সালে ভারতে এবং ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলে। পরে ভারতে আরও দুটি কারখানা তৈরি করা হয়। মূলত ৫০টিরও বেশি জেনেরিক ওষুধ তৈরি করা হয়। ইউক্রেন ছাড়াও উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান এবং ফিলিপিন্স সহ ৯টিরও বেশি দেশে তাদের ওষুধ বিক্রি হয়।
রাশিয়ার এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবার ও পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন সুমির একটি সাধারণ ফার্মাসিউটিক্যাল গুদামেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি কিয়েভের পিভনিচনি ব্রিজ এবং দিনিপ্রোর একটি যোগাযোগ কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সবমিলিয়ে দিনিপ্রোতে ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই সুমির এই কারখানাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলায় কারখানাটি বড়োসড়ো ক্ষতির মুখে পড়ে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
অপরদিকে, গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিক দ্রুতগতির শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচের এই জেটচালিত ড্রোনগুলিকে আটকাতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে একাধিকবার। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহেই ইউক্রেন নিজেদের তৈরি এফপি-৭ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবার যুদ্ধে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে।