নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর কড়া আক্রমণের পর বিজেপি পালটা তাঁকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়েছিল। কারণ তিনি বিদেশে গিয়ে ভারতের বদনাম করেন। সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্বাচন কমিশন—সকলের বিরুদ্ধেই রাহুল বলেন। আর বিদেশি শক্তির হাত শক্ত করেন। তাই তিনি দেশদ্রোহী। ওই আক্রমণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনেই হাজির হলেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। তাঁদের মধ্যে কী কথা হয়েছে সেটা অবশ্য জানা যায়নি। কংগ্রেস শুধুই দুজনের ছবি দিয়েছে। আর রাশিয়ার দূতাবাস কোনো উচ্চবাচ্যই করেনি। ভারতে সদ্য এসেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি তিনদিন ছিলেন দিল্লিতে। কিন্তু সম্মেলনের বাইরে অন্য কোনো কর্মসূচিতে যাননি। তিনি তিনদিন রইলেন, অথচ বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা করলেন না, এরকম কোনো ভুল বার্তা যেন না পৌঁছয়, সেটা নিশ্চিত করাই কি রাশিয়ার দূতাবাসের উদ্দেশ্য? নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। যদিও ২০২০ সাল পর্যন্ত মোদির অতি আমেরিকাপন্থী নীতির জেরে রাশিয়ার আচরণ বদলে যায়। রাশিয়া প্রথমবারের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াও করেছিল। এরপরই ভারত আবার রাশিয়ার সঙ্গে সখ্য বৃদ্ধি করে। মস্কোর সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক বহু বছরের। সুতরাং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে সেই পুরনো মিত্রতার আরও একবার বার্তা দেওয়া হল। বিজেপির মধ্যে যদিও সন্দেহ তৈরি হয়েছে, হঠাৎ কেন রাহুল গান্ধীর বাসভবনে চলে গেলেন ডেনিস আলিপভ। রাহুল কি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছেন? যদিও বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এটা কূটনৈতিক প্রটোকল। শুধুই সরকারপক্ষ অথবা শাসক দল, বিদেশি রাষ্ট্রদূত যে কোনও দেশের বিরোধীদের সঙ্গেও সমান সম্পর্ক বজায় রাখে। তারই প্রতিফলন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলিপভের সাক্ষাৎ। কিন্তু যে প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে ভাসছে সেটি হল, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাহুলের কী বিষয়ে আলোচনা হল?



