


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে কালি লাগানোর প্রতিবাদে সোমবার বীরভূম জেলাজুড়ে মিছিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। বোলপুরে মিছিলের নেতৃত্ব দেন জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। সিউড়িতে বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী ও রামপুরহাটে মিছিলে ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান। দলের নেতারা পদ্ম শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে তিলপাড়া ব্যারাজে ফাটলের প্রতিবাদে সিউড়িতে বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আসা দলের এক নেতা মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে কালি দেন বলে অভিযোগ। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিন বোলপুরে প্রতিবাদ মিছিলে প্রথম সারিতে ছিলেন কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত। রেল ময়দান থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। এদিন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও এলাকার সাধারণ মানুষও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন। অনুব্রত বলেন, বীরভূম জেলাজুড়ে ধিক্কার মিছিল কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তা ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষ বিজেপির নোংরামির প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। কিন্তু কখনও মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে কালি দেব, তা কল্পনাও করিনি। মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছে তাতে আগামী দিনে বিজেপি এই ধরনের নোংরামি করার সাহস পাবে না।
এদিন জেলার সদর শহর সিউড়িতে দলের পার্টি অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে বিধায়কের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হয়ে মিছিল শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছয়। সেখানে পথসভা হয়। উপস্থিত ছিলেন সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। রামপুরহাটে দলীয় কার্যালয় থেকে বিধায়ক আশিসবাবুর নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাট-১ ব্লক সভাপতি নীহার মুখোপাধ্যায়, শহর সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি সহ অন্যান্যরা। মিছিলটি গোটা শহর প্রদক্ষিণের পর পাঁচমাথায় পৌঁছয়। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারির সুর চড়িয়ে বক্তব্য রাখেন আশিসবাবু। তিনি বলেন, বিজেপির নোংরামি করেছে। ওরা সংস্কৃতির ধার ধারে না। প্রতি মুহূর্তে কুৎসা করা ছাড়া অন্য কোনও কাজ ওদের নেই। বাংলার মানুষ ওদের বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ২৬টি আসন পাবে না ওরা। ওরা যদি মনে করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে কালি দিলেই তিনি শেষ হয়ে যাবেন তাহলে বিজেপি মুর্খের স্বর্গে বাস করছে। আগামী দিনে এরাজ্য থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বিজেপি।
এদিন ইলামবাজারের ধিক্কার মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। লাভপুর বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে প্রধান সড়কে প্রচুর তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ধিক্কার মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। নানুর বিধানসভার কীর্ণাহারেও প্রতিবাদ মিছিল হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। জেলার মুরারই, ময়ূরেশ্বর, নলহাটি, হাসন, দুবরাজপুর সহ সর্বত্র প্রতিবাদে মিছিল করে তৃণমূল।