


উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: জয়পুরের কুচিয়াকোল এলাকায় প্রচারে গিয়ে বাসিন্দাদের বিদ্যুতের সমস্যা মেটালেন কোতুলপুরের তৃণমূল প্রার্থী হরকালী প্রতিহার। শুধু তাই নয়, এদিন তিনি বাজে ময়নাপুর এলাকায় হেঁসেলে ঢুকে বাসিন্দাদের ভালোমন্দের খোঁজও নিলেন। সেইসঙ্গে তাঁদের অভাব অভিযোগ শোনার পর পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। হরকালীবাবু এদিন জয়পুরের কুচিয়াকোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১৮টি গ্রামে প্রচার করেন। হুড খোলা গাড়িতে এগ্রাম থেকে সে গ্রামে যান। প্রতিটি গ্রামে গাড়ি থেকে নেমে জনসংযোগ সারেন। এদিন প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন দলের জয়পুর ব্লক সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী।
হরকালীবাবু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় একের পর এক উন্নয়ন যেমন করেছেন। তেমনই ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিটি মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন। তাই আমাকে আলাদা করে কিছুই বলতে হচ্ছে না। সচেতন বাসিন্দারা সেকথা মনে রেখেছেন। তাই যেখানেই যাচ্ছি বিপুল সাড়া পাচ্ছি। এদিন কুচিয়াকোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করেছি। সেখানেও প্রত্যেক মানুষের বিপুল উৎসাহ দেখেছি। কেউ কেউ এলাকার কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। দ্রুত তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। বাজে ময়নাপুর এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। তা শোনার পরেই বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিককে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
কোতুলপুরের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার বলেন, জয়পুর এলাকায় প্রচুর আলু চাষ হয়। রাজ্য সরকার বিপণনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করেনি। ঋণ নিয়ে চাষ করে চাষিরা আলুর দাম পাচ্ছেন না। তাই তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তার জবাব তাঁরা ইভিএমে দেবেন। আমরা ক্ষমতায় এসে চাষিরা যাতে ফসলের ন্যাহ্য দাম পান সেটা আগে দেখব।
হরকালীবাবু এদিন সকালে কুচিয়াকোল বাজারে কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন। সেখান থেকে যান বেঁদো গ্রামে। এই এলাকা বুনো হাতি উপদ্রুত। গ্রামের বাসিন্দা উর্মিলা সর্দার বলেন, গ্রামে পাকা রাস্তা হয়েছে। পানীয় জল পাচ্ছি। এতে আমরা খুশি। তবে রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর অভাব রয়েছে। রাতে ভিতে হাতি ঢুকে যায়। রাস্তায় যাতে আরও বেশি আলো দেওয়া হয় সেকথা প্রার্থীকে বললাম। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। বেঁদো গ্রাম থেকে বেরিয়ে তাঁর গাড়ি পাকা রাস্তা হয়ে বেনাচাপড়ায় যায়। সেখান থেকে ছোট গ্রাম হলদিয়ায় যান। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে জনসংযোগ করেন। এরপর সেখান থেকে যান বাজে ময়নাপুরে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রার্থীকে বিদ্যুতের সমস্যার কথা বলেন। হরকালীবাবু সেখান থেকেই বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিককে ফোন করেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যা সমধানের ব্যবস্থা করেন। তাতে বাসিন্দারা খুব খুশি হন।
তারপর হেঁটে তফসিলি পাড়ায় যান। সেখানে গৃহস্থের হেঁসেলে ঢুকে পড়েন। বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগ শোনেন। কেউ কেউ বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি পাননি বলে অভিযোগ জানান। হরকালীবাবু তাঁদের কেন্দ্রের মোদি সরকার এই প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে বলে জানান। যদিও তিনি বাংলার বাড়ি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর মধ্যহ্ন ভোজ সেরে আবার বেরিয়ে পড়েন। এভাবেই দিনভর বিভিন্ন গ্রাম চষে বেড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী।
বাজে ময়নাপুরের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। হামেশাই লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ দপ্তরে জানিয়েও কাজ হচ্ছে না। পাম্প চালাতে পারছি না। সেকথা প্রার্থীকে জানাতেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে দপ্তরে ফোন করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করেন। এতে আমরা খুব খুশি হয়েছি।
জয়পুরে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী।