স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ফ্ল্যাটের সদস্যরা বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে বেহালার অভিজাত আবাসনে ঘটল দুঃসাহসিক কাণ্ড। পাঁচদিন হাওয়া বদলের পর ফ্ল্যাটে ফিরেও কিছু টের পাননি বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রী। দু’দিন পর আলমারির লকার খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ। সেখান থেকে গায়েব প্রায় ২০ লক্ষ টাকার অলংকার। বেশিরভাগই হীরের গয়না। এছাড়াও কিছু সোনার অলংকারও খোয়া গিয়েছে। চুরির ঘটনা ঘটলেও বাড়ির তছনছ হয়নি। তাতেই সন্দেহ দানা বাঁধে। আবাসনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতেই হতবাক ফ্ল্যাটের মালিক। বেহালায় দুঃসাহসিক চুরি কাণ্ডের নেপথ্যে কি তাহলে ‘রাধা-কৃষ্ণা’?
শনিবার রাতে দুই পরিচারিকার বিরুদ্ধে বেহালার থানায় চুরির অভিযোগ করেন ফ্ল্যাটের মালিক। রাধা ও কৃষ্ণা নামে দুই পরিচারিকা একে অপরের বোন। ঘটনার পর থেকে তারা বেপাত্তা। এমনকি, দুই পরিচারিকাকে একাধিকবার ফোন করেন বাড়ির গৃহকর্ত্রী। তাদের ফোন বন্ধ। শুধু তাই নয়, ছুটি নেওয়ার বিষয়েও কেউ আগে থেকে জানায়নি। তাই গোটা ঘটনার নেপথ্যে দুই পরিচারিকাই রয়েছে বলে কার্যত নিশ্চিত বেহালার এই অভিজাত পরিবার। লালবাজার জানিয়েছে, গৃহকর্তা দীপাঞ্জন নস্করের বহুমূল্যের হীরে ও সোনার গয়না চুরি যাওয়ার অভিযোগ বেহালা থানায় জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই পরিচারিকার খোঁজ চলছে। পাশাপাশি, পুলিশের খাতায় ওই দু’জনের কোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেহালা থানা এলাকার বুড়ো শিবতলার কবিগুরু সরণির একটি অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা দীপাঞ্জন ও তাঁর স্ত্রী। অভিযোগকারী পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা পরিচারিকার খোঁজ করছিলেন। এক মাস আগে রাধা ও কৃষ্ণা নামের দুই বোন তাঁদের বাড়িতে আসে। বিভিন্ন সূত্র মারফত দুই পরিচারিকা এই ফ্ল্যাটের খোঁজ পায় বলে জানায়। তখন থেকেই তারা কাজে যুক্ত হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। সেই সময়ে দুই পরিচারিকাকে ছুটি দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। ১ অক্টোবর বাড়ি ফেরেন নস্কর পরিবারের সদস্যরা। দরজা বন্ধই ছিল। চাবি খুলে ভিতরে ঢোকেন তাঁরা। আসবাবপত্র, আলমারি যে জায়গায় ছিল, সেখানেই রয়েছে। তখনও তাঁরা গয়না খোয়া যাওয়ার কথা জানেন না। গত শনিবার আলমারির লকার খুলতেই হতবাক হয়ে যান। এরপর থানার দ্বারস্থ হন দীপাঞ্জন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, কোনোভাবে ফ্ল্যাট ও আলমারির চাবির ডুপ্লিকেট বানিয়ে থাকতে পারে ‘রাধা-কৃষ্ণা’ জুটি। আলমারিতে যে গয়না রয়েছে, তা আগে থেকেই জানত তারা। বাড়ির সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে তারা ফ্ল্যাটে ঢুকে আলমারি খুলে হীরের একটি ব্রেসলেট, একটি লকেট, একটি নেকলেস, একটি সোনার চেন ও এক জোড়া সোনার দুল হাপিশ করে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কাউকে ট্র্যাক করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের খোঁজ চলছে।