সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকের শাঁকা আমতল থেকে কাশীপুরের আদ্রা রেলগেট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সড়কের বেহাল দশা। বর্তমানে রাস্তা জুড়ে বড়, বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ে। রঘুনাথপুর মহকুমার রঘুনাথপুর -১ ও ২ নম্বর ব্লক, কাশীপুর এবং পাড়া ব্লকের বাসিন্দাদের জন্য রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটি দিয়ে সহজে রেল শহর আদ্রা যাওয়া যায়। আবার কাশীপুর ব্লক এলাকার বাসিন্দারা সহজেই পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কে বাস ধরতে আসতে পারে। অন্যদিকে রাস্তাটি দিয়ে এলাকার ১০ থেকে ১২টি গ্রামের স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীরা যাতায়াত করে। তাই এলাকার মানুষ রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
রঘুনাথপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও রবিশঙ্কর গুপ্তা বলেন, রাস্তাটি রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকের মধ্যে কম রয়েছে। বেশিরভাগ অংশ কাশীপুরের মধ্যে রয়েছে। রাস্তাটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার মানুষের কথা ভেবে কয়েক বছর আগে শাঁকা আমতল থেকে ভায়া গোপীনাথপুর হয়ে আদ্রা পর্যন্ত রাস্তাটি পিচ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা তহবিলে রাস্তাটি হয়েছিল। বর্তমানে রাস্তাটি গর্তে ভরে উঠেছে। বৃষ্টি হতেই সেই গর্তগুলিতে জল জমা হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে সাইকেল, বাইক, টোটো পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। গর্তে চাকা ঢুকে ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে প্রায় দিন কেউ না কেউ আহত হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে রাস্তার একাধিক জায়গায় পিচ উঠে গিয়েছে। সেই সব জায়গায় মাটি পুরো নরম হয়ে কাঁদার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে রাস্তার করুন অবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে। রাস্তাটির দিকে শাঁকা, আদ্রা, গোপীনাথপুর, বাগাডাবর, মানিকপুর, মেট্যালার মতো গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। এলাকার বাসিন্দারা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সর্বস্তরে জানিয়ে এসেছে। তবু কাজ হয়নি।
এলাকার বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি সন্তু তেওয়ারি বলেন, দলীয়ভাবে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছে। রাস্তার সংস্কারের জন্য ডেপুটেশন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। তাই এবার এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ জানাবে। লিখিত অভিযোগ জানানোর পর দ্রুত কাজ শুরু না হলে রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা মাইনোরেটি সেলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আনসারি বলেন, রাস্তাটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে জেলাকে জানানো হয়েছে। যতদূর জানি, সাংসদ তহবিল থেকে রাস্তাটি নতুন করে কাজ করার জন্য ধরা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।



