সংবাদদাতা, ঘাটাল: পুজোর মুখে অবশেষে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন বানভাসি ঘাটালবাসী। সোমবার রাত থেকে ঘাটাল মহকুমা এলাকার সমস্ত নদীর জলস্তর নামতে শুরু করেছে। তবে সেচ ও জলপথ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জল নামার গতি অত্যন্ত ধীর। দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, রূপনারায়ণ নদের জলের চাপ যতক্ষণ না স্বাভাবিক হবে, ততক্ষণ ঘাটালের প্লাবিত এলাকার জল দ্রুত নামার সম্ভাবনা কম। ফলে জল কিছুটা কমলেও সার্বিক দুর্ভোগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
টানা বৃষ্টি ও নদীগুলির উপচে পড়া জলে ঘাটাল পুরসভার ১২টি ও খড়ার পুরসভার ৪টি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া ঘাটাল ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও দাসপুর-১ ব্লকের দু’টি পঞ্চায়েতের বহু গ্রাম জলের তলায়। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ ডুবে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কাঁচা বাড়ি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য চালানো হচ্ছে স্পিডবোট। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রিপল, শুকনো খাবার এবং পানীয় জলের পাউচ বিলি করা হচ্ছে। ওই এলাকার বিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। বিপাকে পড়েছে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সেমেস্টার পরীক্ষার্থীরাও। ঘাটাল শহরের ২নম্বর ওয়ার্ডের যোগদা সৎসঙ্গ হাইস্কুল চত্বরে জল জমে যাওয়ায় সেখানকার পরীক্ষাকেন্দ্রটি স্থানান্তর করে ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বরদা বাণীপীঠ হাইস্কুলের চার দিক জলমগ্ন, পরীক্ষার্থীদের হাঁটু জলের উপর দিয়ে হেঁটে পরীক্ষা দিতে যেতে হচ্ছে। নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় জলস্তর আর বাড়বে না বলে আশা স্থানীয়দের। বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, আমরা প্রত্যেকটি এলাকায় নজর রাখছি। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।