সৌমিত্র দাস, কাঁথি: পুজোয় মায়েরা সকলে সেজেগুজে যখন মণ্ডপের পথে পা বাড়ান, তখন জানালার রেলিংয়ের ধারে বসে দূরে চেয়ে, স্মৃতি রোমন্থন করতেই সময় কেটে যায় ওঁদের। ওঁরা হলেন কাঁথির ফরিদপুরের সমাজকল্যাণ দপ্তর পরিচালিত ‘খেয়া’ বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক বৃদ্ধারা। এবার তাঁদের শুধু মন খারাপ করে কেটে যায়নি। পুজো উপলক্ষ্যে বৃদ্ধাদের মণ্ডপ ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে বৃদ্ধাশ্রমের ২৫জন বৃদ্ধাকে গাড়িতে করে বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরিয়ে দেখায় কাঁথির একটি সংস্থা। প্রতিমা দর্শন করে খুশি বৃদ্ধারা। বৃদ্ধাদের সঙ্গে পুজো পরিক্রমায় শামিল হন এখানকার ‘শক্তিসদন’ হোমের কয়েকজন মহিলা, যাঁদের নির্যাতন সহ নানা কারণে এখানে ঠাঁই হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের হাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং একাধিক সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।
আবাসিক বৃদ্ধারা, অতীতে ছিলেন কোনো পরিবারের গৃহবধূ। কিন্তু নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে তাঁরা যেন আজ ‘বোঝা’। এমনই নানা কারণে জীবন সায়াহ্নে এসে তাঁদের ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। অথচ পুজোর সময় সকলের চরম ব্যস্ততায় কাটত। বাড়িঘর ঝাড়পোঁছ করা, আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়নের বন্দোবস্ত, খাওয়াদাওয়ার আয়োজন-কাজের যেন শেষ থাকত না। কারও কারও বাড়িতে পুজো হত। তাঁদের তো দম ফেলার ফুরসতই মিলত না। কিন্তু সেই সময় গিয়েছে। দূরের মণ্ডপে আগমনির সুর বেজে উঠলেই বিষণ্ণতায় ভরে ওঠে মন। মনে মেঘ ঘনিয়ে আসে। অতীতের দিনগুলিতে কাটিয়ে আসা নানা সোনালি স্মৃতি আর পরিবারে চরম অবহেলার দিনগুলির কথা বেশি করে মনে পড়ে পুষ্পলতা মাঝি, মঞ্জু খাঁড়া, হরিপ্রিয়া মল্লিক সহ বাকিদের। চার দেওয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শনের সুযোগ হয় বটে। নতুন বস্ত্রও হাতে পান তাঁরা। কিন্তু মন যে মানে না। কোথাও মন খারাপের স্মৃতি যেন তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়। চেয়ারে বসে নতুন কাপড় হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে আর স্মৃতি হাতড়াতে হাতড়াতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে পুষ্পলতা, মঞ্জু, হরিপ্রিয়াদের। চিবুক বেয়ে কয়েক ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ে নতুন বস্ত্রের উপর। কারণ স্মৃতি যে বড় বেদনার! নিজস্ব চিত্র



