Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাষ্ট্রের থেকে ধর্মকে পৃথক করা যায় না: ভাগবত

রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা সম্ভব নয়। ধর্ম এবং রাষ্ট্র অবিচ্ছিন্ন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত শুক্রবার মুম্বইয়ে এই মন্তব্য করেছেন।

রাষ্ট্রের থেকে ধর্মকে পৃথক করা যায় না: ভাগবত
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব  প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা সম্ভব নয়। ধর্ম এবং রাষ্ট্র অবিচ্ছিন্ন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত শুক্রবার মুম্বইয়ে এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রের লক্ষ্যই হল ধর্ম স্থাপন। আর একমাত্র ধর্মই পারে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী রাখতে। সেই কারণেই এই রাষ্ট্র ও ধর্ম পরস্পরের উপর নির্ভরশীল এবং একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। পরস্পর থেকে পৃথক করা যায় না। তাঁর কথায়, গোটা বিশ্ব সংকটের মুখে। উন্নয়নের সঙ্গে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা। ব্যক্তি স্বাধীনতার সঙ্গে পারিবারিক জীবন যাপনের বিরোধ। আধুনিক যুগের এই তাবৎ ভারসাম্যহীনতার সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে পৃথিবী তাকিয়ে রয়েছে ভারতের দিকে। ভারতের আধ্যাত্মিক শিক্ষার কাছে সমাধান চাইছে দুনিয়া। তাই ভারতের দায়িত্ব অনেক বেশি। শুক্রবার অল ইন্ডিয়া বিহার সেবা প্রতিষ্ঠানের চতুর্দশ সম্মেলনে মোহন ভাগবত ধর্ম এবং রাষ্ট্রকে অবিচ্ছিন্ন হিসাবে আখ্যা দিলেও সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ  ভারত। অর্থাৎ রাষ্ট্র এবং ধর্মের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনও ধর্মাচারণ ও ধর্ম পালন থাকবে না। সংবিধানের ৪২ তম সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনায় এই সেকুলার অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল জরুরি অবস্থার সময়। মুখে এই অন্তর্ভুক্তির সমালোচনা না করলেও সংঘ পরিবার ও বিজেপি বারংবার ইন্দিরা গান্ধীর সংবিধান সংশোধন প্রবণতাকে তীব্র নিন্দা করেছে। এমনকি সংবিধান দিবসের এক অনুষ্ঠানে সংসদে মোদি সরকার যে সংবিধান প্রকাশ করে বিলি করেছিল, সেটি ছিল ১৯৪৯ সালের নভেম্বর মাসে সংসদে গ্রহণ করা সংবিধান। অর্থাৎ যেখানে সেকুলার শব্দ ছিল না। সুপ্রিম কোর্টেও ইন্দিরা গান্ধী বনাম রাজ নারায়ণ মামলার প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনও ধর্ম থাকবে না। সংবিধানের ২৫ থেকে ২৮ পর্যন্ত ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মপালনের মৌলিক অধিকার আছে। গান্ধী জয়ন্তীর দিনেই মোহন ভাগবত রাষ্ট্র এবং ধর্মকে একে অন্যের মধ্যে বিলীন করার বার্তা দিয়ে প্রশ্ন উস্কে দিলেন। যদিও সংঘ পরিবারের দাবি, সরসংঘচালক ধর্ম বলতে কোনও বিশেষ ধর্মের কথা বলেননি। তিনি ন্যায় ধর্ম স্থাপনের কথা বলেছেন। রাষ্ট্রের লক্ষ্য ন্যায় ধর্ম স্থাপন। আর তিনি এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে একটি ধর্মসমন্বয়েরও বার্তা দিয়েছেন। সুতরাং বিতর্কের কোনো স্থান নেই। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ