বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, মুম্বই: ইলন মাস্কের স্টারলিংককে নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চা, ঠিক তখনই স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবসায় আগ্রহ হারানোর ইঙ্গিত দিল রিলায়েন্স জিও। তারা বাজারে প্রথমবার শেয়ার বিক্রি করতে চলেছে। সেই সংক্রান্ত নথিতেই (রেড হেরিং প্রসপেক্টাস) তারা কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবায় অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী রিলায়েন্স জিও দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং) ঘোষণা করেছে। রিলায়েন্স জিও’র মূল সংস্থা জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেড প্রথমবার বাজারে শেয়ার ছেড়ে ৩০,২১৩ কোটি টাকা ঘরে তুলতে চায়। এই ইস্যু খুলবে ২১ অক্টোবর, বন্ধ হবে ২৩ অক্টোবর। ১০ টাকা মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের প্রিমিয়াম সহ দাম ধার্য করা হয়েছে ন্যূনতম ১,০৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ১,১১৯ টাকা। এর আগে ভারতের সবচেয়ে বড় আইপিও ছিল এলআইসির। তারা ২১,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়ার কথা ঘোষনা করেছিল। এবার সেই রেকর্ড ভাঙতে চলেছে।
শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত নথি বা প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, আইপিও থেকে ওঠা ২৭,৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে জিও ইনফোকমের ঋণ শোধে। তবে ওই টাকায় স্যাটেলাইট সংক্রান্ত বিনিয়োগের কথা তারা জানাচ্ছে না। জিও প্ল্যাফর্মস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ আম্বানিও তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্যাটেলাইটকে রাখেননি। বরং তিনি হোম ব্রডব্যান্ড, এন্টারপ্রাইজ এবং এআই ভিত্তিক পরিষেবায় জোর দেওয়ার কথা বলেছেন। প্রযুক্তির হাত ধরেই আরও বেশি সংখ্যক ক্রেতাকে ধরে রাখার বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিন বছরে চীনের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম ৫জি নেটওয়ার্ক বানিয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ৩১ কোটি নতুন মোবাইল গ্রাহক এবং ১০ কোটি বাড়িতে ফাইবার পৌঁছানো।’ এরই পাশাপাশি ২০৩০’এর গোড়ায় বাণিজ্যিকভাবে ৬জি প্রযুক্তি আনার ঘোষণাও করেছেন আকাশ আম্বানি। এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, জিও-র ফোকাস এখন আকাশে নয়, মাটিতে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম নিলামের জন্য কেন্দ্রের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছিল জিও। তাতে স্টারলিংকের মতো বিদেশি সংস্থার খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় সরকার সেই দাবি খারিজ করে প্রশাসনিক বরাদ্দের পক্ষে রায় দেয়। অর্থাৎ সরকারই ঠিক করবে, কাকে কাকে তা দেওয়া হবে।
এরপর ২০২৫ সালের মার্চে জিও কৌশল বদলে স্টারলিংকের ডিস্ট্রিবিউটর হওয়ার চুক্তি করে। পাশাপাশি এই সংক্রান্ত পরিকাঠামো তারা নিজেরাই তৈরি করে। কিন্তু এরপর আর তেমন কিছু এগয়নি। নিরাপত্তা যাচাইয়ের দোহাই দিয়ে স্যাটেলাইট ভিত্তিক পরিষেবা থমকে রেখেছে তারা। সম্প্রতি ইলন মাস্ক মুকেশ আম্বানিকে ভারতের আসল প্রধানমন্ত্রী বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন, জিও স্টারলিংককে ভরতের বাজার ধরতে বাধা দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, জিও স্যাটেলাইট, ওয়ানওয়েব এবং স্টারলিংক এই তিনটি সংস্থাই স্যাটেলাইট পরিষেবায় আসতে চেয়ে এসেছে এতদিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদেশে ফাইবারের মাধমে পরিষেবা দেওয়া যতটা সস্তা, স্যাটেলাইট ভিত্তিক পরিষেবা তার চেয়ে অনেক দামি। তাই তার বাজার পাওয়া কঠিন। তাই আপাতত এই নিয়ে দ্রুত এগতে রাজি নয় তারা।



